নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: গরমের শুরুতেই বাঁশবেড়িয়া পুর এলাকায় তীব্র জলসঙ্কট দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি গঙ্গার জলস্তর অনেকটা নেমে যাওয়ায় পুরসভার জলপ্রকল্পে ডামাডোল শুরু হয়েছে। ফলে এই গরমে বাসিন্দাদের জলের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না পুরসভা। বাঁশবেড়িয়া পুরসভার জল বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, গন্ধেশ্বরী জলপ্রকল্পে গঙ্গা থেকে প্রতিদিন ১৫ মিলিয়ন লিটার জল উত্তোলনের কথা। বর্তমানে সেখানে মেরেকেটে পাওয়া যাচ্ছে ৯ মিলিয়ন লিটার জল। আবার, এই জলের কিছুটা অংশ টেনে নেয় চুঁচুড়া পুরসভা। যেকারণে বাঁশবেড়িয়া পুরসভার রিজার্ভারগুলিতে জল মজুত করা সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে, গ্রীষ্মের মরশুমে সর্বত্রই জলের চাহিদা বেড়েছে। সব মিলিয়ে বিরাট সমস্যায় পড়েছেন বাসিন্দারা।
পুরসভার জলপ্রকল্প নিয়ে ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে। তাঁদের অভিযোগ, বাঁশবেড়িয়া পুরসভার জলপ্রকল্পটি নতুন। গ্রীষ্মে জলের চাহিদা বাড়বে, নির্মাণের সময় সে কথা মাথায় রাখা হয়নি। যে কারণে এই দুর্ভোগ। জলসঙ্কটের জেরে পুরসভার চেয়ারম্যান থেকে কাউন্সিলার, সকলকেই সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে। সমস্যার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন বাঁশবেড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান আদিত্য নিয়োগী। তিনি বলেন, জলসঙ্কট দেখা দিয়েছে। বাসিন্দাদের ক্ষোভও সামাল দিতে হচ্ছে। আসলে গঙ্গায় জলস্তর গত এক সপ্তাহে দ্রুত নেমে যাওয়ার কারণেই এই বিপত্তি। আমরা পর্যাপ্ত জল উত্তোলন করতে পারছি না। সেকারণেই এই সমস্যা। জলপ্রকল্পে কোনও ত্রুটি নেই। এই সমস্যা মেটাতে অন্যভাবে বাড়তি জল পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। জলপ্রকল্পের বাইরেও কিছু জল আমরা দ্রুত সরবরাহ করব।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুরসভার এক কর্তা বলেন, আমরা সমস্যার কথা আগেই আঁচ করেছিলাম। গন্ধেশ্বরী জলপ্রকল্পের ৪০ শতাংশ জল চুঁচুড়া পুরসভাকে দিতে হয়। পাশাপাশি, গরমের মরশুমে গঙ্গায় জলস্তর নেমে যায়। এসব কারণে গঙ্গা থেকে জল তোলার জন্য আরও একটি কেন্দ্র গড়তে পুরদপ্তরের অধীনে থাকা একটি সংস্থাকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তা এখনও অনুমোদন হয়নি। ওই প্রকল্প হয়ে গেলে গ্রীষ্মেও আর জলের সমস্যা থাকবে না। বাঁশবেড়িয়া পুরসভার বাসিন্দা সনাতন ঘোষ বলেন, কী হলে কী সুবিধা হতো, সেসব অন্য প্রশ্ন। বাস্তব হল, গরমের মরশুমে পর্যাপ্ত পানীয় জলের জোগান মিলছে না। পুরসভা ঢাকঢোল পিটিয়ে নতুন জলপ্রকল্প করলেও আমাদের চাহিদা মেটাতে পারছে না। এটা পুরসভার ব্যর্থতা। তার খেসারত দিতে হচ্ছে আমাদের।
বাঁশবেড়িয়ার বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, গত একসপ্তাহ ধরে জল নিয়ে ডামাডোল শুরু হয়েছে। পুরসভার নলবাহিত জলের গতি প্রথমে কমে গিয়েছিল। আর এখন দিন কয়েক হল, দিনের অধিকাংশ সময় জলই কার্যত মিলছে না। এই অবস্থায় বাংলা নববর্ষের মুখে বাসিন্দাদের তীব্র ভোগান্তি শুরু হয়েছে।