Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

একই দেওয়াল ‘দখল’ অরূপ ও দেবাশিসের! বিক্রমগড়ে দুই কেন্দ্রের সহাবস্থান

নির্বাচনি প্রচারে দেওয়াল ‘দখল’ নতুন কিছু নয়। নিজেদের প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারের জন্য পাড়ায় পাড়ায় কোন দেওয়ালের ‘দখল’ কে নেবে, তা নিয়ে বাংলার ভোটে অনেক কাণ্ডই ঘটে।

একই দেওয়াল ‘দখল’ অরূপ ও দেবাশিসের! বিক্রমগড়ে দুই কেন্দ্রের সহাবস্থান
  • ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১৪:০৪
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নির্বাচনি প্রচারে দেওয়াল ‘দখল’ নতুন কিছু নয়। নিজেদের প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারের জন্য পাড়ায় পাড়ায় কোন দেওয়ালের ‘দখল’ কে নেবে, তা নিয়ে বাংলার ভোটে অনেক কাণ্ডই ঘটে। কিন্তু এক দেওয়াল নিয়ে একই দলের দুই প্রার্থীর টানাটানি বেশ বিরল ঘটনা! ভোট-বাজারে তেমনই এক চমকপ্রদ ঘটনার সাক্ষী থাকছে দক্ষিণ কলকাতার বিক্রমগড়। তবে সেই দেওয়ালের ‘দখল’ নিয়ে স্বাভাবিক কারণেই কোনো তিক্ততা বা অপ্রীতিকর ঘটনার অবতারণা হয়নি। পাশাপাশি রয়েছে পাশাপাশি দুই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থীর প্রচার। আর তার মাঝে ‘প্রাকৃতিক’ সীমারেখা হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে একটি গাছ! একদিকে রাসবিহারী কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমার। অন্যদিকে টালিগঞ্জের জোড়াফুল প্রার্থী অরূপ বিশ্বাস। 

Advertisement

বিক্রমগড় মেইন রোড গলফ গ্রিন অঞ্চলের সঙ্গে যাদবপুরের সংযোগ রক্ষা করে। গলফ গ্রিন থেকে টেলিফোন এক্সচেঞ্জ হয়ে এই রাস্তা ধরেই বিক্রমগড় মোড় বা ক্রসিং পেরিয়ে যাদবপুর এইট বি চলে যাওয়া যায়। আবার প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোড থেকে লর্ডস মোড় হয়ে গলফ গ্রিনের দিকে এগিয়ে গেলেও পড়বে বিক্রমগড় মোড়। সেই বিক্রমগড় ক্রসিংয়ে  রাস্তায় একদিকে রয়েছে লম্বা টানা পাঁচিল। সেই দেওয়ালেরই ‘দখল’ নিয়েছেন পাশাপাশি দুই কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী। টানা এই পাঁচিলকে কার্যত দু’ভাগে ভাগ করেছে একটি গাছ। সেই গাছের দু’দিক ভাগাভাগি করে নিয়েছেন দুই প্রার্থী। পাঁচিলের অন্য অংশে আবার দু’জনের নামই পাশাপাশি দেওয়ার লিখন করা হয়েছে।
এক দেওয়ালের দখল নিয়ে এমন টানাটানি কেন? এর কারণ বিক্রমগডড়ের এই চত্বরের বিশেষ ভৌগোলিক অবস্থান। দেওয়ার সংলগ্ন রাস্তার একদিকে রয়েছে টালিগঞ্জ বিধানসভার অন্তর্গত কলকাতা পুরসভার ৯৫ নম্বর ওয়ার্ড। উলটো দিকে রয়েছে রাসবিহারী বিধানসভার অধীন ৯৩ নম্বর ওয়ার্ড। স্বভাবতই দুই বিধানসভা এলাকার বাসিন্দা তথা ভোটারদের নিত্য আনাগোনা লেগে থাকে এই চত্বরে। স্থানীয়রাই বলছেন, কলকাতার বুকে এমন দেওয়াল লিখন কমই দেখা যায়। একটি দেওয়ালে দুই দলের প্রার্থীর নাম কিংবা পৃথক দলীয় প্রতীক চোখে পড়ে। তাতে এলাকার রাজনৈতিক রেষারেষির কিছু ছবিও স্পষ্ট হয় অনেক সময়। দেওয়াল ‘দখল’ নিয়ে ঝামেলার কথাও শোনা যায় মাঝেমধ্যে। বিরোধীদের দেওয়াল লিখন শাসক দল মুছে দিয়েছে কিংবা উলটোটা—এমন অভিযোগ আকছার শোনা যায়। তাই এই আবহে বিক্রমগড়ের এই দেওয়ালে শাসক দলের দুই প্রার্থীর ‘শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান’ নজর কাড়ছে প্রত্যেকের। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, তাঁদের অঞ্চলে দেওয়াল লিখন নিয়ে খুব একটা ঝামেলা হয়নি কোনোবারই। ৯৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তপন দাশগুপ্ত বলেন, ‘ওই রাস্তাটি দুই বিধানসভার মধ্যে পড়ে। আমরাই ভাগাভাগি করে ওখানে দেওয়াল লিখি। প্রতিবার ভোটেই এমন হয়। তবে ওই পাঁচিলের ভিতরে যে বাড়িটি আছে, সেখানকার বাসিন্দারা রাসবিহারী বিধানসভায় ভোট দেন।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ