Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

দূষণ রোধে দিল্লিতে কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের ট্রায়াল, সহযোগিতায় কানপুর আইআইটি

সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশিকা থাকলেও এই বছর দীপাবলিতে দিল্লি কিংবা এনসিআর এলাকায় সবুজ বাজির সেভাবে ব্যবহারই হয়নি।

দূষণ রোধে দিল্লিতে কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের ট্রায়াল, সহযোগিতায় কানপুর আইআইটি
  • ২৯ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশিকা থাকলেও এই বছর দীপাবলিতে দিল্লি কিংবা এনসিআর এলাকায় সবুজ বাজির সেভাবে ব্যবহারই হয়নি। পরিবর্তে দেদার ফেটেছে নিষিদ্ধ শব্দ এবং আতশবাজি। ছটপুজোতেও এর অন্যথা হয়নি। ধর্মীয় আচার পালন করতে গিয়ে সোমবার এবং মঙ্গলবারও দিল্লি এবং পার্শ্ববর্তী শহরগুলিতে আতশবাজি পুড়েছে। ফলে আবারও দিল্লি-এনসিআরের দূষণ ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তথ্যেই ইঙ্গিত মিলছে, দেশের রাজধানী শহরের দূষণ পরিস্থিতি ফের অতি খারাপ থেকে বিপজ্জনক দিকে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই দিল্লিতে শর্তসাপেক্ষে বাণিজ্যিক গাড়ি প্রবেশের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দূষণ মোকাবিলায় শহরে কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লির বিজেপি সরকার। সেইমতো আইআইটি কানপুরের সহযোগিতায় মঙ্গলবার দিল্লিতে দু’বার ‘ক্লাউড সিডিং’য়ের পরীক্ষা হয়েছে। 

Advertisement

বিশেষ বিমানে দিল্লির নর্থ করোলবাগ, বুরারি, ময়ূরবিহারের মতো দূষণ জর্জরিত এলাকায় ট্রায়াল হয়েছে। দিল্লি সরকারের পরিবেশমন্ত্রী মনজিন্দর সিং সিরসা এদিন সকালেই দাবি করেছিলেন, দু’বারের ক্লাউড সিডিং ট্রায়ালের পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে শহরে কৃত্রিম বৃষ্টিপাত হতে পারে। যদিও মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত তা হয়নি। সেক্ষেত্রে কি আজ, বুধবার দিল্লিতে প্রথম কৃত্রিম বৃষ্টিপাত হতে পারে? আপাতত এই প্রশ্নে শুরু হয়েছে চর্চা। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার দু’বারের ট্রায়াল নিয়ে দিল্লিতে ‘ক্লাউড সিডিং’য়ের মোট তিনটি পরীক্ষামূলক অভিযান করল বিজেপি সরকার। গত মে মাসে মোট পাঁচটি ‘ক্লাউড সিডিং’য়ের অনুমোদন দিয়েছিল দিল্লি মন্ত্রিসভা। বরাদ্দ হয়েছিল ৩ কোটি ২১ লক্ষ টাকা। এহেন তিনটি পরীক্ষামূলক অভিযানের পরই প্রশ্ন উঠছে, আদৌ কি সর্বতোভাবে এই চেষ্টা সফল হবে? নাকি পুরো টাকাই জলে যেতে চলেছে? 
‘ক্লাউড সিডিং’ পদ্ধতির জন্য ১৫ থেকে ২০ শতাংশ আর্দ্রতাযুক্ত প্রাকৃতিক মেঘ জমতেই হবে। এরপর বিশেষ বিমানে কৃত্রিম পদ্ধতিতে সেই মেঘে সিলভার আয়োডাইড অথবা সল্ট ক্রিস্টাল ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তা ওই মেঘে কৃত্রিমভাবে বৃষ্টির ফোঁটা তৈরি হতে সাহায্য করে। এরপরেই কৃত্রিম বৃষ্টিপাতে ভেজে শহর। মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, কর্ণাটকের মতো রাজ্যে ইতিপূর্বে খরা নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে এই বিশেষ পদ্ধতির ব্যবহার করা হয়েছে। তবে দিল্লির বিজেপি সরকার একে ‘ঐতিহাসিক’ ট্রায়াল কিংবা শহরের প্রথম সম্ভাব্য কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের তকমা দিচ্ছে ঠিকই। কিন্তু তথ্যাভিজ্ঞ মহলের দাবি, সাতের দশকেই দিল্লিতে এহেন প্রচেষ্টা হয়েছে। কিন্তু তা সফল হয়নি। 

সম্পর্কিত সংবাদ