


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: স্ত্রীকে মারধর ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার এক সেনাকর্মী। ঘটনাটি ঘটেছে হাবড়ার কুমড়া এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম মনোরঞ্জন সরকার। এবার অভিযুক্ত সেনাকর্মীর বিভিন্ন কীর্তি প্রকাশ্যে এনেছেন স্ত্রী পূজা সরকার। বলেন, আমার মাথার চুল কেটে নেড়া করে গোবর জল ঢেলেছিলেন স্বামী। এমনকি, নজরদারির জন্য বেডরুমে পর্যন্ত সিসি ক্যামেরা পর্যন্ত বসিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে লাঠি ও লোহার রোড দিয়ে ব্যাপক মারধর করা হয়েছে। হাবড়া থানায় এসে স্বামী সহ শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করেছেন পূজাদেবী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হাবড়ার কুমড়া পঞ্চায়েতের খারোবেলের বাসিন্দা সেনাকর্মী মনোরঞ্জন সরকার জয়পুরে কর্মরত। ২০১৭ সালে তাঁর সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল পূজার। তাদের দু’টি সন্তান রয়েছে। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই স্ত্রীকে সন্দেহ করতেন স্বামী। স্ত্রীর উপর নজরদারি চালাতে শেষমেশ বেডরুমেও সিসি ক্যামেরা বসিয়েছেন। প্রথম সন্তান হওয়ার পর থেকেই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয় বলে অভিযোগ।
শ্বশুর মুকুন্দ সরকার ও শাশুড়ি অঞ্জলি সরকার অত্যাচার করেন বলেই অভিযোগ। স্বামী ছুটিতে বাড়ি এলে অত্যাচারের পরিমাণ বেড়ে যেত। পাছে স্ত্রীর উপর কেউ আকৃষ্ট হয়, তাই স্ত্রীর সৌন্দর্য্যহানি ঘটনাতে মাথার চলে কেটে নেড়া করে দিয়েছিলেন স্বামী। শুধু তাই নয়, নেড়া মাথায় গোবরজলও ঢেলে দিয়েছিলেন।
শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতনের কথা বাপের বাড়িতে জানাতেন না পূজা। দুই সন্তানের কথা ভেবে সবকিছু মুখ বুজে সহ্য করতেন পূজা। ক’দিন আগে ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন মনোরঞ্জন।
পরিবারের দাবি, এই নির্যাতনের পিছনে শ্বশুর, শাশুড়ি সহ দুই প্রতিবেশীরও মদত রয়েছে। তাঁর হাত, পা, ঘাড়ে কালসিটের দাগ রয়েছে। নির্যাতিতা গৃহবধূ পূজা সরকার বলেন, ‘স্বামী সহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমার উপর নির্যাতন চালাত। একজন মহিলার কাছে তাঁর লম্বা চুল সৌন্দর্য্যের প্রতীক। স্বামী সন্দেহের বশে আমার চুল কেটে নেড়া করে গোবরজল ঢেলেছে, বেডরুমে ক্যামেরা বসিয়েছে। সব অত্যাচার এতদিন মুখ বুঝে সহ্য করেছি। দোষীদের কঠোর শাস্তি চাই।’ এদিন আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে ধৃত সেনাকর্মী মনোরঞ্জন অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।