


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘আমরা গ্রুপ ১৩৭৮। ভারতীয় জাদুঘরে আসছি মঙ্গলবার দুপুর একটা ২০ মিনিট নাগাদ। তখনই বোমা ফাটানো হবে। একসঙ্গে বহু মানুষের মৃত্যু।’ মঙ্গলবার সকালে ইমেল করে এটি জানায় ‘গ্রুপ ১৩৭৮’ নামে কেউ বা কারা। একটু পরে মেলটি নজরে আসে ভারতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষের। মেলের বয়ান হাড়ে কাঁপুনি তোলার পক্ষে যথেষ্ঠ।
একেবারে দেরি করেননি জাদুঘরের কর্তারা। নিউ মার্কেট থানায় দ্রুত অভিযোগ জানান। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করে পুলিস। লালবাজার থেকে আসে বম্ব স্কোয়াড, স্নিফার ডগ। তবে বোমার খোঁজ মেলেনি। ধীরে ধীরে ঘড়ির কাঁটা এগতে থাকে একটা ২০ মিনিটের দিকে। মৃদু হৃদকম্প সবারই বুকে। টিকটিক, টিকটিক-ঘড়ির কাঁটা একসময় ছুঁয়ে ফেলল একটা ২০ মিনিটের ঘর। সবাই এলার্ট। তবে কোনও কোণ থেকেই বিস্ফোরণের আওয়াজ ভেসে এল না। ফাটল না কোনও বোমা। দেখতে দেখতে তিন ঘণ্টা অতিক্রান্ত। এলার্ট পুলিস, এলার্ট জাদুঘরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিআইএসএফ। তল্লাশি বন্ধ হল না তবে শেষপর্যন্ত বিস্ফোরকের সন্ধানও মিলল না। তল্লাশির একেবারে শেষ পর্যায়ে সিআইএসএফ জওয়ানদের একজন হঠাৎই বলে উঠলেন ‘আরে আজ তো ফার্স্ট এপ্রিল। কেউ এপ্রিল ফুল বানিয়েছে। মেল পাঠিয়ে বোকা বানিয়েছে।’
যতই এপ্রিল ফুল হোক দুপুর থেকে তীব্র আতঙ্ক জাদুঘরে। সকালের দিকে যে দর্শকরা ঢুকেছিলেন তাঁদের বের করে দেওয়া হয়। রীতিমত হইচই পড়ে যায় চত্বরে। তখন ভিতরে ছিলেন ৫০৯ জনের মতো দর্শক। ছিলেন ১০ বিদেশি পর্যটকও। তাঁদের নিরাপত্তার বিষয়টি বুঝিয়ে বের করে সিআইএসএফ। বন্ধ করে দেওয়া হয় টিকিট কাউন্টার, প্রবেশদ্বার। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, অজ্ঞাতপরিচয় একটি আইডি থেকে হুমকি মেল এসেছিল। প্রায় তিন ঘণ্টা তল্লাশি অভিযান চলেছে। কোনওরকম বিস্ফোরক বা বোমা মেলেনি।
উল্লেখ্য এর আগে জানুয়ারি মাসেও বোমাতঙ্ক সংক্রান্ত হুমকি মেল এসেছিল জাদুঘরে। তখনও কিছু মেলেনি। গতবছর জাদুঘর সহ শহরের একাধিক স্কুলে এসেছিল হুমকি মেল। লালবাজার জানিয়েছে, মেলের আইপি অ্যাড্রেস ভুয়ো। তাই প্রেরকের অবস্থান চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। তবে তদন্ত জারি আছে।