


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অন্ত্যোদয় রেশনের আওতাভুক্ত পরিবারগুলিকে খাদ্যসামগ্রী বণ্টনের ক্ষেত্রে সমতা আনার উদ্যোগ নিয়েছে খাদ্যদপ্তর। এই কাজে নেমে তারা সওয়া ৩ লক্ষেরও বেশি অন্ত্যোদয় পরিবারকে চিহ্নিত করেছে, যেখানে মাত্র একজন সদস্য। এর মধ্যে বেশ কিছু পরিবার রয়েছে, যেখানে একমাত্র সদস্যের বয়স ১৮ বছরের কম। এক সদস্য বিশিষ্ট অন্ত্যোদয় পরিবারগুলিকে জাতীয় প্রকল্পের (প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা) আওতায় ‘এসপিএইচ’ শ্রেণির কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। আর ১৮ বছরের কম বয়সিদের ব্যাপারে বিশেষ তদন্ত করে তাদের মূল পরিবারের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হয়। ফলে অন্ত্যোদয় পরিবারের সংখ্যা কেন্দ্র নির্ধারিত কোটার থেকেও কমে গিয়েছে। এই অবস্থায় বড় অন্ত্যোদয় পরিবারগুলি ভেঙে একাধিক পরিবার হিসেবে বিবেচনা করে রেশন দেওয়ার নীতি চূড়ান্ত করেছে খাদ্যদপ্তর। এভাবেই কোটা পূরণের পন্থা নেওয়া হয়েছে। সমতার নীতি মেনে অন্ত্যোদয় পরিবারগুলিকে বেশি পরিমাণে চাল-গম দিতেই খাদ্যদপ্তরের এই উদ্যোগ বলে দাবি। ঠিক হয়েছে, যেসব পরিবারের সদস্য সংখ্যা ১২ জনের বেশি এবং ২২ জনের কম, সেই পরিবারগুলিকে দুই ভাগে ভাগ করা যাবে। কোনও পরিবারের সদস্য সংখ্যা ২২ বা তার বেশি হলে দু’টি বা তিনটি ভাগে ভাগ করা যাবে। খাদ্যদপ্তরের গৃহীত এই নীতি নির্দেশিকা আকারে জেলা পর্যায়ের আধিকারিকদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অন্ত্যোদয় রেশন গ্রাহকরা জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের (এনএফএসএ) আওতায় পড়েন। পরিবার ভাগ করার প্রক্রিয়া কার্যকর করতে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন নিয়েছে রাজ্য। অন্ত্যোদয় রেশন গ্রাহকদের পরিবার পিছু মাসে ৩৫ কেজি করে চাল-গম দেওয়া হয়। আর জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের আওতাধীন রেশন গ্রাহকরা মাসে মাথাপিছু ৫ কেজি করে চাল-গম পান। জাতীয় প্রকল্প অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনার আওতায় রাজ্যের প্রায় ৬ কোটি ২ লক্ষ রেশন গ্রাহক আছেন। এর মধ্যে অন্ত্যোদয় পরিবারের সংখ্যা ১৬ লক্ষ ২৫ হাজার ৩১৭। এই পরিবারগুলির মোট সদস্য সংখ্যা এখন ৫২ লক্ষ ৬৫ হাজার ৯১৩। প্রতি রাজ্যে জাতীয় প্রকল্পের সুবিধা কত জন পাবেন, সেই সংখ্যা কেন্দ্রীয় সরকার ১১ বছর আগেই ঠিক করে দিয়েছে। একইভাবে অন্ত্যোদয় পরিবারের কোটাও নির্দিষ্ট করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। বড় পরিবারগুলি ভেঙে সেই কোটা পূরণের উদ্যোগ নিয়েছে খাদ্যদপ্তর।
তাদের বক্তব্য, একটি অন্ত্যোদয় পরিবারের সদস্য সংখ্যা আটের বেশি হলেও তারা মাসে ৩৫ কেজি খাদ্যসামগ্রী পাচ্ছেন। সেখানে অন্ত্যোদয় নয়, এমন এসপিএইচ শ্রেণির আট সদস্যের কোনও পরিবার মাথাপিছু ৫ কেজি হিসেবে মোট ৪০ কেজি খাদ্যসামগ্রী পেয়ে যাচ্ছেন। তাই বরাদ্দে সমতা আনতে বড় অন্ত্যোদয় পরিবারগুলি ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে প্রতি পরিবারে অন্তত ৫ জন করে সদস্য থাকলে তবেই আবেদনের ভিত্তিতে এই সুবিধা মিলবে।