


সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: নাম উঠেছে ভোটার তালিকায়। কিন্তু পাশে লেখা ‘বিচারাধীন’। আর এই যান্ত্রিক তকমাকে হাতিয়ার করে ড্রাইভিং লাইসেন্স দিতে অস্বীকার করছে জঙ্গিপুর মহকুমা আঞ্চলিক পরিবহণ দপ্তর (RTO)। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন শতাধিক আবেদনকারী। অভিযোগের এখানেই শেষ নয়, দপ্তরের ট্রায়াল বা ড্রাইভিং টেস্টেও সামান্য অজুহাতে আবেদনকারীদের ‘ডিসকোয়ালিফাইড’ করে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। ফলে পুনরায় আবেদনের চক্করে পকেট থেকে খসছে বাড়তি টাকা। নষ্ট হচ্ছে সময়। বিচারাধীন ভোটার কার্ড নেওয়া হচ্ছে না সেই অভিযোগ আংশিক মেনে নিলেও তা নিয়ে সাফাই গেয়েছে পরিবহণ দপ্তর।
জঙ্গিপুরের এআরটিও সুজয় দাস বলেন, ডিলিট বা বিচারাধীন তালিকায় থাকা আবেদনকারীদের পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি। ভোটার কার্ডের সঙ্গে অন্য যে কোনো সাপোর্টিং ডকুমেন্টস দিতে বলা হচ্ছে। তাই বিষয়টি পুরোপুরি সত্যি নয়।
জঙ্গিপুর মহকুমার বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ মানুষের অভিযোগ, নতুন লাইসেন্স বা পুনর্নবীকরণের জন্য আবেদন করলে পরিবহণ দপ্তরের তরফে ভোটার তালিকার স্ট্যাটাস দেখা হচ্ছে। সেখানে যাঁদের নামের পাশে প্রশাসনিক কারণে ‘বিচারাধীন’ না আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন লেখা থাকছে, তাঁদের আবেদন ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। আবেদনকারীদের প্রশ্ন, ভোটার তালিকায় প্রশাসনিক কোনও ত্রুটি বা যাচাইকরণের কাজ চললে তার সঙ্গে ড্রাইভিং লাইসেন্সের কোনো সম্পর্ক আছে? আধার কার্ড বা অন্য পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও কেন এই টালবাহানা, তা নিয়ে দপ্তরের সামনেই ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন আবেদনকারীরা।
ড্রাইভিং টেস্ট বা ট্রায়াল দিতে আসা যুবক-যুবতীদের বড় অংশই দপ্তরের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলছেন। তাঁদের দাবি, গাড়ি চালানোর সময় সামান্যতম ত্রুটিকে বড় করে দেখিয়ে তাঁদের অযোগ্য ঘোষণা করা হচ্ছে। একবার ডিসকোয়ালিফাই হলে ফের সরকারি ফি দিয়ে নতুন করে স্লট বুক করতে বাধ্য করা হচ্ছে। অভিযোগ উঠছে, বারবার আবেদনের ফলে সরকারি কোষাগারে টাকা জমা পড়লেও সাধারণ মানুষের ভোগান্তির শেষ থাকছে না। জঙ্গিপুরের বাসিন্দা রাজকুমার মির্জার অভিযোগ, আমরা একসঙ্গে ২২ জন ট্রায়াল দিয়েছি। তবে মাত্র চারজন এই পরীক্ষায় সফল হতে পেরেছেন। বাইক বা গাড়িতে খুব দক্ষ না হলে এই ট্রায়ালে উৎরানো মুস্কিল মনে হলো।
তবে এই অভিযোগ নিয়ে জঙ্গিপুরের আরটিও অফিসের এক আধিকারিক জানান, সরকারি নিয়ম মেনেই যাবতীয় নথিপত্র যাচাই করা হচ্ছে। ভোটার তালিকায় যদি কোনও ত্রুটি থাকে, তবে তা সংশোধনের পরই সেই ব্যক্তিকে লাইসেন্স দেওয়া সম্ভব। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে ট্রায়ালের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি করা হচ্ছে।