


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রাথমিক স্তরের স্কুল ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ঘিরে বেশকিছু অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসছে নীচুস্তর থেকে। মিড ডে মিলের টাকা বাঁচিয়ে তা সার্কেল স্তরের ক্রীড়া আয়োজক কমিটির হাতে দেওয়ার মৌখিক নির্দেশ দিচ্ছেন কিছু স্কুল পরিদর্শক। অভিযোগ গিয়েছে রাজ্যের মিড ডে মিল (অধুনা পিএম পোষণ) প্রকল্প দপ্তরেও। বিষয়টিকে অনৈতিক এবং নিয়মবিরুদ্ধ বলেই মানছেন আধিকারিকরা।
বিভিন্ন জেলায় শিক্ষা সার্কেল স্তরের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সদ্য শেষ হয়েছে। এবার শুরু হবে মহকুমা স্তরের খেলা। সার্কেল স্তরে স্কুল থেকে হাতেগোনা পড়ুয়াই অংশ নিয়েছিল। তবে শিক্ষকদের দাবি, এসআইরা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বলছেন, যত জন পড়ুয়াই আসুক, সবাই মিড ডে মিল পেয়েছে বলে রিপোর্ট দিতে হবে সংশ্লিষ্ট পোর্টালে। আর মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, সার্কেল স্তরের ক্রীড়া আয়োজক কমিটির হাতে সেই টাকা তুলে দিতে হবে। এখন পরীক্ষার পরে স্কুলে ছুটি রয়েছে। তাই পড়ুয়াদের স্পোর্টস দেখানোর জন্য আনার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। এর জন্য বাড়তি কোনও আর্থিক বরাদ্দও নেই। তা সত্ত্বেও অনৈতিকভাবে মিড ডে মিল কর্তৃপক্ষকে কেন ১০০ শতাংশ হাজিরার রিপোর্ট দিতে হবে, সেই প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষকরা।
সার্কেল স্তরে ক্রীড়া আয়োজনের জন্য এক লক্ষ ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে। তার বেশ খানিকটা অংশ ইতিমধ্যেই ছাড়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি গৌতম পাল। তা সত্ত্বেও ক্রীড়া কমিটিকে টাকা দেওয়ার নির্দেশ কেন? মিড ডে মিলের বিষয়টি অবশ্য তাঁর এক্তিয়ারভুক্ত নয় বলে তা নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি তিনি। মিড ডে মিল বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, ‘অনেক এসআইয়ের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আমরা পাচ্ছি। এটা একেবারেই ঠিক নয়। এমন চলতে থাকলে পরে কিন্তু সামলানো কঠিন হবে।’
এর পাশাপাশি আরও একটি দাবি উঠছে পঞ্চায়েত এবং অঞ্চল স্তরে ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অর্থ সাহায্যের। শিক্ষকদের দাবি, সবচেয়ে বেশি পড়ুয়া অংশগ্রহণ করে এই স্তরগুলিতেই। অথচ, সেখানে কোনও অর্থ বরাদ্দ নেই। আগামী বছর থেকে এই স্তরে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন থেকে বিরত থাকার হুঁশিয়ারিও দিচ্ছেন অনেকে। যদিও এই বিষয়ে পর্ষদ সভাপতি বলেন, ‘সার্কেল স্তর হচ্ছে সবচেয়ে নীচু স্তর। তাই তার বাইরে আর্থিক অনুদান দেওয়া পর্ষদের পক্ষে সম্ভব নয়। সেই স্তরে কোনও আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে কি না, সেই বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’