নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরের উত্তর প্রান্ত থেকে প্রাণকেন্দ্র— ইংরেজি বর্ণমালার ‘এল’ অক্ষরের মতো বিস্তৃত মহানগরীর ‘লাইফলাইন’। সিঁথি থেকে ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত সড়কপথে দৈর্ঘ্য প্রায় ৯ কিলোমিটার। লালবাজারের সমীক্ষা বলছে, রাজধানী শহরের এই অংশই অফিসটাইমে সবচেয়ে বেশি ‘শ্লথ’। তার প্রধান কারণ ক্রসিংয়ের সংখ্যা। ডোরিনা ক্রসিং থেকে সিঁথির মোড় পর্যন্ত মোট ৪৮টি ক্রসিং রয়েছে। সেই কারণে দিনের ব্যস্ত সময়ে উত্তর, উত্তর-পূর্ব, মধ্য, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব কলকাতার বেশিরভাগ অংশে যানজট ও অতিরিক্ত ‘স্টপেজ টাইম’-এ নাকাল হতে হচ্ছে শহরবাসীকে।
বিশ্বের যানজটে নাকাল শহরগুলিকে নিয়ে সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার সমীক্ষা রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। তাতে দেখা যায়, ভারতের মধ্যে কলকাতা শহরেই যানজট সবচেয়ে বেশি। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, কলকাতায় প্রতি ১০ কিলোমটার পেরতে সময় লাগে ৩৪ মিনিট ৩৩ সেকেন্ড। এই রিপোর্টের পর নড়েচড়ে বসে লালবাজারের ট্রাফিক বিভাগ। মূলত অফিসটাইম মাথায় রেখে পৃথকভাবে একটি অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা চালায় পুলিস। কলকাতা পুলিসের ডেপুটি কমিশনার (ট্রাফিক) শ্রীকান্ত জগন্নাথরাও বলেন, ‘ডোরিনা থেকে সিঁথির মোড় পর্যন্ত মোট ৪৮টি ক্রসিং রয়েছে। একাধিক ক্রসিংয়ে বিপুল সংখ্যায় পথচারী পারাপার করেন। ওই সমস্ত পয়েন্টে স্বাভাবিকভাবেই যান চলাচল অনেক শ্লথ হয়ে পড়ে।’ এমন কাটআউট বা ক্রসিংগুলি ইতিমধ্যে চিহ্নিত করেছে লালবাজার। কে সি দাস ক্রসিং, গণেশচন্দ্র অ্যাভিনিউ, এম জি রোড, গিরিশ পার্ক, শোভাবাজার, শ্যামবাজার, চিড়িয়ামোড়, রবীন্দ্রভারতী এবং সিঁথির মোড়— এই ন’টি ক্রসিং অত্যন্ত জনবহুল বলে দাবি লালবাজারের। অফিসটাইমে এই ক্রসিংগুলিতে অন্তত দেড় মিনিট ‘স্টপেজ টাইম’ থাকে। অর্থাৎ, গড়ে প্রায় ১৪-১৫ মিনিট শুধুমাত্র বড় ক্রসিংগুলিতে দাঁড়িয়ে থেকেই কেটে যায় যাত্রীদের। অন্যান্য ক্রসিংগুলির জন্য অল্পবিস্তর ব্যাহত হচ্ছে যানবাহনের গতি। সব মিলিয়ে এই ‘লাইফলাইনে’ কাজের দিনের ব্যস্ত সময়ে ৯ কিলোমিটার পেরতে লেগে যাচ্ছে ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা, যা আন্তর্জাতিক সমীক্ষা রিপোর্টে দেওয়া হিসেবের প্রায় দ্বিগুণ। সেখানেই চিন্তা পুলিসের। লালবাজার সূত্রে খবর, ইতিমধ্যে এই ৪৮টি ক্রসিংয়ের জন্য বিশেষভাবে ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনা করছে পুলিস। কীভাবে চিহ্নিত পয়েন্টগুলিতে যানবাহনের গতি বাড়ানো যেতে পারে, তার জন্য উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকও করা হচ্ছে। শহরে যানবাহনের গতিবৃদ্ধিতে প্রাথমিকভাবে সিগন্যাল ম্যানেজমেন্ট ও পথচারীদের নিয়ন্ত্রণই প্রধান লক্ষ্য। এসব জায়গায় পথচারীদের একটি নির্দিষ্ট চ্যানেল দিয়ে পারাপার করানো যায় কি না, তাও ভেবে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। বেহালা চৌরাস্তায় দুর্ঘটনায় খুদে পড়ুয়ার মৃত্যুর পর ওই ক্রসিংয়ে পথচারীদের জন্য বিশেষ ‘চ্যানেল’ করা হয়েছে। ডোরিনা থেকে সিঁথি পর্যন্ত সেভাবেই কোনও ব্যবস্থার পরিকল্পনা করছেন লালবাজারের কর্তারা।