


কানপুর: জনবহুল রাস্তায় ব্যবসায়ী পুত্রের দৌরাত্ম্য। মদ্যপ অবস্থায় বেপরোয়া গতিতে মহার্ঘ গাড়ি চালিয়ে একের পর এক পথচারীকে ধাক্কা। উত্তরপ্রদেশের কানপুরে রবিবার বিকেলে ১০ কোটি টাকার ল্যাম্বরগিনির ধাক্কায় জখম অন্তত ছ’জন। এই ঘটনায় গাড়ির অভিযুক্ত চালক শিবমকে আড়ালের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে যোগীরাজ্যের পুলিশের বিরুদ্ধে। শিবম শহরের এক তামাক ব্যবসায়ীর ছেলে বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার বিকেল সোয়া তিনটে নাগাদ কানপুরের রেভ-৩ মলের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারায় শিবমের ল্যাম্বরগিনি রেভুয়েল্টো গাড়ি। তারপর বেশ কয়েকজন পথচারী ও গাড়িতে ধাক্কা মারে সেটি। বেপরোয়া গতির ল্যাম্বরগিনি একটি বাইকেও ধাক্কা মারে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বাইকের আরোহী প্রায় ১০ ফুট দূরে ছিটকে পড়েন। বাইক আটকে যায় গাড়িতে। ওই অবস্থাতেই বাইকটিকে বেশ কিছুটা হিঁচড়ে টেনে নিয়ে গিয়ে বিদ্যুতের একটি খুঁটি ধাক্কা মেরে থেকে যায় গাড়িটি। এরপর পিছনের গাড়িতে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা শিবমকে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। স্থানীয় লোকজন বাধা দিলে ওই নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁদের সঙ্গে দুর্বব্যবহার করে বলে অভিযোগ। এরপর উত্তেজিত জনতা গাড়ির কাচ ভেঙে শিবমকে বাইরে বের করে। তারপর তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। পরে পুলিশ এসে শিবমকে উদ্ধার করে।
জানা গিয়েছে, পুলিশের প্রাথমিক এফআইআরে ব্যবসায়ী পুত্রের নামই ছিল না। বদলে ‘অজ্ঞাত পরিচয়’ ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছিল মামলা। পরে অবশ্য জনতার চাপে এফআইআরে শিবমের নাম উল্লেখ করা হয়। এর আগেও সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছিল শিবম ও তাঁর বাবা কেকে মিশ্রের নাম। কর ফাঁকির অভিযোগ ২০২৪ সালে মিশ্রদের একাধিক ঠিকানায় হানা দেয় আয়কর দপ্তর। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল প্রায় ৫০ কোটি টাকা মূল্যের একাধিক গাড়ি। যার মধ্যে ছিল রবিবারের ঘটনার ল্যাম্বরগিনিটিও। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির তালিকায় ছিল হিরে বসানো আড়াই কোটি টাকা দামের ঘড়িও।