


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: গত রবিবার হাবড়ায় এক যুবককে খুনের ঘটনায় নিউ জলপাইগুড়ি থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করল মূল অভিযুক্ত জয়ন্ত শিকদারকে। বুধবার তাকে বারাসত আদালতে তোলা হলে পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, মাসখানেক আগেই মঙ্গল সাধককে খুনের পরিকল্পনা করে তাঁরই বন্ধু জয়ন্ত। তাই গুমা বাজার থেকে ২৫০ টাকা দিয়ে ধারালো দা কিনেছিল সে। তারপর সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। অভিযোগ, সেই পরিকল্পনা কার্যকর করে ওইদিন। পুরানো আক্রোশের কারণেই এই খুন বলে প্রাথমিক তদন্তে দাবি করেছে পুলিশ। উল্লেখ্য, আগে এই ঘটনায় মঙ্গল মল্লিক ওরফে বিজয় নামে আরও এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সে এখন পুলিশি হেপাজতে রয়েছে।
জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে হাবড়ার বিড়ার নবপল্লি এলাকার বাসিন্দা বিজয় এসে মঙ্গল সাধককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। তারপর একটি কলাবাগানে বসে মদ্যপান করে তারা। সেই আসরে জয়ন্তও ছিল। তারা এলাকায় ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলেই পরিচিত। সেখানে বিজয় ও জয়ন্তর সঙ্গে বচসা হয় মঙ্গলের। অভিযোগ, সেই সময় আচমকা ধারালো দা বের করে মঙ্গলের গলায় কোপ মারে জয়ন্ত। গলার নলি কেটে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় মদের আসরেই লুটিয়ে পড়েন মঙ্গল। ঘটনার পর অভিযুক্ত মঙ্গল ও জয়ন্ত গা ঢাকা দেয়। হাবড়া থানার পুলিশ এসে মঙ্গলকে হাবড়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। নিহতের মা মিনতি সাধক বিজয় ও জয়ন্তর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেন। সোমবার বিজয়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, এই খুন তাৎক্ষণিক রাগের কারণে নয়, বরং পরিকল্পিত। মাসখানেক আগেই তাঁকে খুনের ছক কষেছিল জয়ন্ত। পুলিশের প্রাথমিকভাবে তদন্তে ব্যক্তিগত বিবাদ বা শত্রুতার ইঙ্গিত মিলেছে। তবে খুনের নির্দিষ্ট কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। খুনে ব্যবহৃত দা’টি উদ্ধারের চেষ্টা করছে পুলিশ। ধৃতরা পুলিশকে জানিয়েছে, নিহত মঙ্গল মাঝেমধ্যেই ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে জয়ন্তকে উত্ত্যক্ত করত। আগেও তারা মারধরে জড়িয়েছিল। রবিবার রাতে খুনের পরিকল্পনা করেই তারা এসেছিল। জেরায় জয়ন্ত জানিয়েছে, সে নিজে খুন করেছে মঙ্গলকে। এই ঘটনার পর সে নিউ জলপাইগুড়িতে দিদির বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল। নিজস্ব চিত্র