


অভিজিৎ চৌধুরী, চুঁচুড়া: এবার বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহ্যের চন্দননগরে চার দশক আগের এক অনন্য রেকর্ড ভাঙার হাতছানি ইন্দ্রনীল সেনের সামনে। মজার কথা, প্রতিদ্বন্দ্বীরা চাইলেও সেই রেকর্ড ছুঁতে পারবেন না। এমনিতে গত দু’টি বিধানসভা নির্বাচনে উদ্দাম গতিতে ছুটেছে ইন্দ্রনীলের বিজয়রথ। এবার জিতলেই চন্দননগরে হ্যাটট্রিক হবে তাঁর। প্রায় চার দশক পর ফের এক বেনজির ঘটনা ঘটবে। সিপিএমের ভবানী মুখোপাধ্যায় ১৯৬২ সাল থেকে ১৯৮৭ পর্যন্ত টানা বিধায়ক ছিলেন। তারপর সিপিএম, কংগ্রেস, তৃণমূল জিতলেও আর কেউ চন্দননগরে পরপর তিনবার বিধায়ক হননি।
নজির গড়ার নির্বাচনে রাজ্যের মন্ত্রীর প্রতিদ্বন্দ্বী মূলত দু’জন। সিপিএমের প্রবীণ শিক্ষকনেতা মণীশ পান্ডা এবং বিজেপির রাজ্যনেতা দীপাঞ্জন গুহ। চন্দননগরের মাটি পদ্মপার্টির বিশেষ হজম হয় না। ২০২১ সালের নির্বাচনে প্রথমবার ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমে তা হাড়েমজ্জায় টের পেয়েছিলেন দীপাঞ্জন। এবার দ্বিতীয়বার পুরানো ‘শত্রু’র মুখোমুখি। তাঁকে ঘিরে ইতিমধ্যেই উলটপুরাণের ঘনঘটা। তাঁকে নিয়ে সুখী নয় দলের কর্মীরাই। তিনি প্রার্থী হতেই পদ্মপার্টির একাংশ ঘরে-বাইরে বিক্ষোভ শুরু করেছে। অন্যদিকে, তাঁর নাম ঘোষণা হয়েছিল যে রাতে, সেদিনই নাকি তৃণমূল শিবির সবুজ আবিরের অর্ডার দিতে চেয়েছিল। দীপাঞ্জনের দাবি, রাজ্যের মন্ত্রীর বাড়া ভাতে ছাই দিতে তৈরি তিনি। প্রথমবার জয় পেলে তা তাঁর ক্ষেত্রে নজিরই হবে। দীপাঞ্জন বলেন, নতুন শত্রু, চেনা শত্রু, এসব কিছু নয়। লড়াই হবে নীতির সঙ্গে দুর্নীতির। অব্যবস্থাকে বদলানোর।
সাবেক ফরাসি কলোনির জলহাওয়া সিপিএমের মাঝেমধ্যে সয় না। ভরা বাজারেও চন্দননগরে পরপর দু’বার কংগ্রেসের কাছে হেরেছে সিপিএম। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে জিতেছিল কংগ্রেস। আর ২০১১ সাল থেকে হুঁকো-কল্কে দু’টিই উধাও। উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের ইংরেজি শিক্ষক মণীশ পান্ডা। বামপ্রার্থী স্বভাবে বিনয়ী, শিক্ষা-তত্ত্বের পণ্ডিত। সাবেক ফরাসি তালুকের বাম-রাজনীতিতে পুরানো হলেও ভোট রাজনীতিতে নবীন। আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলছেন, গঙ্গাপাড়ের হাওয়া এবার লাল পতাকার পালে। মানুষ জোট বাঁধছে। সাতসকালে এমনিতেই ফুরফুরে মেজাজে ছিলেন ইন্দ্রনীল। বললেন, রেকর্ড তো মানুষ গড়েন। গত দু’বার আমাকে তাঁরা আপন করেছেন, তাঁদের সেবার সুযোগ দিয়েছেন। তা আমার সারা জীবনের সম্পদ। আমি কাজ করেছি। বিচারের ভার জনতা জনার্দনের।
এই সুসংহত কথা কি ‘উতল হাওয়া’র গায়কের? নাকি প্রবীণ রাজনীতিকের? ২০২১ সালেও প্রচারে বের হলে বিভিন্ন জায়গায় একটু গান গাওয়ার আবদার আসত। গায়ক বিষন্ন হাসতেন, গাইতেন। এবারের প্রচারে গানের দাবি নেই, তা নয়। কিন্তু বেশি আসছে কাজের দাবি, কাজ করার জন্য প্রশংসাবার্তা। পুরোদস্তুর রাজনীতিক হয়ে ওঠার স্বীকৃতি মিলছে জনতার দরবারে। তাও আবার নজিরের সামনে দাঁড়িয়ে। নিজস্ব চিত্র