


সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: শেষমেশ অন্ধ্রপ্রদেশ থেকেই দেশের উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দিল মোদি বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ৭৯ বছরের বালাকৃষ্ণ সুদর্শন রেড্ডি। সৌজন্যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কংগ্রেসের সঙ্গে তিনিও তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েনকে দিয়ে একই নাম প্রস্তাব করে বাজিমাৎ করলেন। গোড়াতেই তৃণমূল জানিয়ে দিয়েছিল, এনডিএ তামিলনাড়ুর প্রার্থী দিয়েছে বলে পাল্টা তারাও তামিলনাড়ুর কোনও ব্যক্তিকে বাছবে না। কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিতেও আপত্তি ছিল। আর সেটাই সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হল। মঙ্গলবার বিজেপি বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের পাশে রেখে বালাকৃষ্ণ সুদর্শন রেড্ডির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে।
ফলে জমে গেল লড়াই। অন্ধ্রপ্রদেশ বনাম তামিলনাড়ু। মোদির নেতৃত্বাধীন এনডিএ যেমন তামিলনাড়ুর ব্যক্তিত্ব আরএসএস কর্মী সি পি রাধাকৃষ্ণনকে প্রার্থী করে ইন্ডিয়া জোটের মধ্যে ডিএমকেকে চাপে ফেলে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করছে, একইভাবে বিরোধী ইন্ডিয়া জোট। অন্ধ্রপ্রদেশের ব্যক্তিত্ব সুদর্শন রেড্ডিকে প্রার্থী করে এনডিএ শরিক চন্দ্রবাবু নাইডুর দল তেলুগু দেশম পার্টিকে চাপে ফেলল। উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার লোকসভা-রাজ্যসভার সদস্যরা। এই নির্বাচনে দলীয় কোনও ‘হুইপ’ থাকে না। যাঁর যাঁকে ইচ্ছা ভোট দিতে পারেন। ফলে রাজ্যের ‘অস্মিতা’র প্রশ্নে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ‘ক্রস ভোটিং’ হয় কি না, সেটাই দেখার।
আজ রাজ্যসভার সেক্রেটারি জেনারেল তথা উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনী অফিসার পি সি মোদির কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেবেন এনডিএ’র পদপ্রার্থী রাধাকৃষ্ণন। আগামী কাল ২১ আগস্ট মনোনয়নপত্র পেশ করবেন সুদর্শন রেড্ডি। তার জন্য নিয়ম মতো তিনটি প্রস্তাবনা পত্র তৈরি হচ্ছে। বুধবার সংবিধান সদনের সেন্ট্রাল হলে সাংসদরা সেই প্রস্তাবনাপত্রে সই করবেন। মনোনয়নের লক্ষ্যে মঙ্গলবার বিকালে হায়দরাবাদ থেকে দিল্লিতে এসে পৌঁছন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের প্রার্থী। নয়াদিল্লি বিমানবন্দরে তাঁকে শালের উত্তরীয়তে স্বাগত জানান শতাব্দী রায়। ছিলেন কংগ্রেস, জেএমএম সহ বিরোধী দলের সাংসদরাও।
বিশেষ সূত্রে খবর, সোমবার বিরোধীদের বৈঠকে শারদ পাওয়ার, কানিমোঝির মতো বিভিন্ন দলের সাংসদরা নানা নাম প্রস্তাব করেন। মল্লিকার্জুন খাড়্গের বাংলো ১০ রাজাজি মার্গে বিকাল সাড়ে পাঁচটা থেকে এক ঘণ্টার বৈঠকে নানা নাম নিয়ে আলোচনা হয়। তারপর কিছুক্ষণ বিরতি। আলোচনার সারমর্ম ফোন এবং এসএমএস করে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেককে জানান ডেরেক।
তখনই তৃণমূলনেত্রী জানিয়ে দেন, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নয়। এই ভোটে বিরোধীদের জেতার সুযোগ খুবই কম। তবুও বিজেপি তথা এনডিএ’র আরএসএস মনোভাবাপন্ন প্রার্থীর বিরুদ্ধে সংবিধান রক্ষার লড়াইয়ের বার্তা দিতে হবে। হতে হবে অন্ধ্রপ্রদেশের কেউ। সেক্ষেত্রে বি সুদর্শন রেড্ডির নামই পেশ হোক। পরে সেই নাম নিয়েই ফের বিরোধীদের বৈঠকে রাত ১০ টা ১০ পর্যন্ত আলোচনা হয়। সর্বসম্মত হতেই রেড্ডিকে ফোন করেন খাড়্গে। তারপরই তৃণমূল। প্রার্থী হতে সম্মতি জানান প্রাক্তন বিচারপতি। ডেরেক এদিন জানান, আম আদমি পার্টি ইন্ডিয়া জোটে নেই ঠিকই। তবে উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কেজরিওয়ালের দলও আমাদের সঙ্গে আছে।