শ্রীকান্ত পড়্যা, দীঘা: ৩০এপ্রিল অক্ষয় তৃতীয়ার পুণ্যতিথিতে দীঘা জগন্নাথধাম ও সংস্কৃতি কেন্দ্রে জগন্নাথদেবের প্রাণপ্রতিষ্ঠা হবে। সেইসঙ্গে ২০০কোটির বেশি খরচে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের আদলে তৈরি এই মন্দিরের দরজা সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হিডকো’র তরফে পেশাদার ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা নিয়োগ করা হয়েছে। পর্যটনকেন্দ্র দীঘা এবার দিগন্তবিস্তৃত সমুদ্রের কল্লোলধ্বনির পাশাপাশি জগন্নাথধামের জন্যও পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হবে।
পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সমস্ত কাজ হয়ে যাবে। উদ্বোধনের প্রস্তুতি চলছে। হিডকো’র ভাইস চেয়ারম্যান এসে প্রস্তুতি দেখে গিয়েছেন। পর্যটকদের সুরক্ষা, পরিষেবা, স্বাচ্ছন্দ্য-সমস্ত বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জগন্নাথধাম ও সংস্কৃতি কেন্দ্রের নির্মাণকারী সংস্থা হল রাজ্য সরকারের অধীনস্থ হিডকো। হিডকো’র ভাইস চেয়ারম্যান হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী সহ আধিকারিকরা দফায় দফায় দীঘায় এসে চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখছেন। ২০একর জায়গাজুড়ে এই জগন্নাথধাম স্থাপত্যের এক অনন্য নির্দশন। রাজস্থানের দামী পাথরে খোদাই করা অপরূপ মন্দির তৈরি হচ্ছে। জগন্নাথধামকে ঘিরে দীঘার পর্যটনশিল্পের আরও প্রসার হবে বলে হোটেল মালিক ও ব্যবসায়ীরা মনে করছেন।
উদ্বোধনের পর সৈকতের মতো জগন্নাথধামেও পর্যটকদের ভিড় উপচে পড়বে। তাই পর্যটকদের জন্য পানীয় জল, বিদ্যুৎ সহ প্রয়োজনীয় পরিষেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২০একর জগন্নাথধাম চত্বরে তিনটি সাবমার্সিবল পাম্প বসিয়েছে পিএইচই। দীঘায় বিদ্যুতের চাহিদা ক্রমশ বাড়তে থাকায় আরও একটি সাবস্টেশন তৈরি হয়েছে। জগন্নাথধামে তিনটি ফিডার লাইন টানার পাশাপাশি জেনারেটর বসানো হয়েছে। ফলে এখানে ২৪ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা মিলবে।
মন্দির ঘেঁষে জেলাপরিষদ ভবন তৈরি হচ্ছিল। সেটি জেলাপরিষদের নিজস্ব গেস্ট হাউস হওয়ার কথা ছিল। প্রাক্তন সভাধিপতি দেবব্রত দাসের প্রয়াণ ও জেলায় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলের জেরে সেই কাজ ব্যাহত হয়। যদিও হিডকো এখন ওই গেস্ট হাউস নিয়ে সাজিয়ে তুলছে। সেখানেই স্বাস্থ্যকর্মী, দমকলকর্মী ও পুলিসকর্মীরা থাকবেন।
জগন্নাথধামের সামনে সুসজ্জিত উদ্যান তৈরির কাজ শেষের পথে। ফোয়ারা ও রকমারি আলোয় রাতে সেই উদ্যান দর্শনার্থীদের মায়াবী পরিবেশ উপহার দেবে। ভক্তরা সমুদ্রে স্নান সেরে সরাসরি মন্দিরে গিয়ে পুজো দিতে পারবেন। এজন্য পরপর চারটি ঘাট প্রস্তুত থাকবে। পোশাক বদলের জন্য থাকছে আলাদা ঘর। প্রতিটি ঘাটে পর্যাপ্ত নিরাপত্তারক্ষী থাকবে।
এখন মন্দিরের সামনে জাতীয় সড়কের ধার বরাবর বিরাট এলাকাজুড়ে সৌন্দর্যায়নের কাজ হচ্ছে। মন্দিরের ভিতরও ঝা চকচকে করার কাজ চলছে। গেটে ২৪ঘণ্টার জন্য তিনটি শিফটে নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ করা হয়েছে। মন্দির চত্বরে বাইরের কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।-নিজস্ব চিত্র