


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পিলখানায় প্রোমোটার শফিক খানকে খুনের পর অভিযুক্ত হারুন ও রোহিত তাদের পরনের জামাকাপড় ফেলেছিল কোডারমার জঙ্গলে। ধৃত গাড়ির চালক সাদাবকে জেরা করে জেনেছে সিআইডি। কলকাতায় পোশাক বদলে নিয়ে, খুনের সময়কার জামাকাপড় গাড়িতে তুলেছিল তারা। এই পোশাক উদ্ধারের জন্য ঝাড়খণ্ডের কোডারমায় যাচ্ছেন তদন্তকারীরা। যে ব্যক্তি হারুনকে অস্ত্র সরবরাহ করেছিল, চিহ্নিত হয়ে গিয়েছে সেই ব্যক্তিও।
শফিককে খুনের পর হারুন এবং তার সহযোগী রাফাকাত ওরফে রোহিত স্থানীয় এলাকায় পোশাক বদলের সুযোগ পায়নি। ঘটনাস্থল থেকে বাইকে প্রথমে তারা হাওড়া স্টেশনে পৌঁছয়। তারপর ট্যাক্সি ধরে যায় জোড়াসাঁকো এবং মেটিয়াবুরুজ। বিহার শরিফ পালাতে তাদের সাহায্য করে সাদাব নামে এক ব্যক্তি। সে গাড়িতে করে বিহার শরিফে বিজেপি নেতা তাজের বাড়িতে পৌঁছে দেয় দুজনকে।
সাদাব তদন্তকারীদের জানিয়েছে, খুনের সময় হারুন ও রোহিত যে জামাকাপড় পরেছিল, গাড়িতে ওঠার পর সেটি ডিকিতে রেখে দেয় সে। মেটিয়াবুরুজে এসে নতুন জামা ও প্যান্ট কেনে দুজন। সেগুলি পরেই বিহারে রওনা দেয় তারা। হারুন তদন্তকারীদের আরো জানিয়েছে, তথ্য-প্রমাণ লোপাটের জন্য খুনের সময় ব্যবহৃত জামাকাপড় নষ্ট করা যে জরুরি, তা সে জানত। হারুন এবং রোহিতের জামায় রক্তের দাগ লেগে ছিল। জামাকাপড়ের ফরেনসিক পরীক্ষা হলে প্রমাণিত হবে যে খুনের ঘটনায় তারা সরাসরি জড়িত। এটি হারুন ভালো করেই জানত। তাই সে ঠিক করে, জামাকাপড় এমন জায়গায় ফেলতে হবে যাতে পুলিশ কোনো তথ্য-প্রমাণই খুঁজে না-পায়। তথ্য-প্রমাণের অভাবে মামলা দুর্বলই হয়ে যায়।
কোডারমার জঙ্গলে পৌঁছে গাড়িতে থামাতে বলে হারুন। হারুন ও রোহিতের জামাকাপড় ডিকি থেকে বের করে জঙ্গলের ভিতর ঢুকে সেগুলি ফেলে আসে সাদাব। তার কাছ থেকে এই তথ্য পাওয়ার পরই এই জামাকাপড় উদ্ধারে সক্রিয় হয়েছে সিআইডি। সাদাবকে নিয়ে সিআইডি কোডারমায় যাচ্ছে সেগুলি উদ্ধারের জন্য। জেরায় হারুন আরো জানিয়েছে, এলাকার সিসি ক্যামেরা ফুটেজ নষ্ট করার জন্য পিলখানার এক শাগরেদকে নির্দেশ দিয়েছিল সে। কলকাতায় যাওয়ার সময়ই ওই নির্দেশ দেওয়া হয়। হারুন এবং রোহিত গুলি চালাচ্ছে, এই ছবি যেন কোথাও ধরা না পড়ে। এমন তথ্য-প্রমাণ নষ্ট করা গেলে এই ঘটনায় তাদের সরাসরি যোগের বিষয়টি নিয়ে পুলিশ মুশকিলে পড়বে। কিন্তু ঘটনা জানাজানি হওয়ায় এই চক্রান্তে মূল অভিযুক্তরা সফল হয়নি।