


নয়াদিল্লি: আধার আছে তো? যে কোনও কাজে আজকাল টেবিলের ওপার থেকে এমনই প্রশ্ন ধেয়ে আসে। গুরুত্বপূর্ণ এই নথিই এবার মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আধার কার্ড চালু হওয়ার পর থেকে বিগত ১৪ বছরে দেশে ১১ কোটিরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু আধার কার্ড নিষ্ক্রিয় হওয়ার সংখ্যাটা খুবই নগণ্য। মাত্র ১ কোটির সামান্য বেশি। অর্থাৎ মৃত্যুর পর এখনও সক্রিয় রয়েছে অধিকাংশের আধার কার্ড। তথ্য জানার অধিকার আইনে সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের হাতে এসেছে এমনই উদ্বেগজনক তথ্য। তাহলে বাকি আধার কার্ডগুলি কী অবস্থায় রয়েছে? ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের কথায়, দেশে ক্রমবর্ধমান প্রতারণা, জালিয়াতি ও দুর্নীতির কাজে হাতিয়ার করা হচ্ছে মৃতদের আধার কার্ডগুলি। যা ক্রমে বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।
রাষ্ট্রসঙ্ঘের পপুলেশন ফান্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এবছর এপ্রিল মাস পর্যন্ত ভারতের মোট জনসংখ্যা ১৪৬ কোটি ৩৯ লক্ষ। এক্ষেত্রে ১৪২ কোটি ৩৯ লক্ষের কাছে রয়েছে আধার কার্ড। সিভিল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেমের (সিআরএস) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২০০৭-২০১৯ সালের মধ্যে ভারতে গড়ে প্রায় ৮৩.৫ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সেই হিসেবে ১৪ বছরে মৃতের সংখ্যাটা দাঁড়ায় প্রায় ১১ কোটি ৬৯ লক্ষ। কিন্তু এযাবৎ মোট ১ কোটি ১৫ লক্ষ আধার কার্ড নিষ্ক্রিয় করেছে ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অব ইন্ডিয়া (ইউআইডিএআই)। অর্থাৎ দেশের মোট মৃতের ১০ শতাংশেরও কম আধার কার্ড নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।
কেন এই পরিস্থিতি? ইউআইডিএআই আধিকারিকদের বক্তব্য, আধার কার্ড নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল। কোনও ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর তাঁর ডেথ সার্টিফিকেট সহ নানা বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে হয়। কোনও সমস্যা দেখা দিলেই আধার নিষ্ক্রিয় হতে সময় লেগে যায়। এক্ষেত্রে রেজিস্টার জেনারেল অব ইন্ডিয়ার (আরজিআই) দেওয়া তথ্যের উপর নির্ভর করতে হয়। আরজিআই ডেথ রেকর্ডস দেওয়ার পর নাম, লিঙ্গ ইত্যাদি বিষয়গুলি মেলানো হয়। মৃত্যুর পর ওই আধার নম্বরটি কোনও বায়োমেট্রিক অথেন্টিকেশনের কাজে ব্যবহার হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়। তারপরই সম্পন্ন হয় নিষ্ক্রিয় করার পদ্ধতি। আরটিআই রিপোর্টে জানা গিয়েছে, প্রতিবছর কত আধার কার্ড নিষ্ক্রিয় করা হয়, সেই তথ্যও কর্তৃপক্ষের কাছে নেই। তাই ক্রমে বাড়ছে আধার অপব্যবহারের আশঙ্কা।