


নয়াদিল্লি: সঞ্চার সাথীর পর এবার আধার! ফের কেন্দ্রীয় সরকারের অ্যাপ প্রি ইনস্টলের প্রস্তাব ঘিরে দানা বেঁধেছে বিতর্ক। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ফোন নির্মাতা সংস্থাগুলিকে গোপনে এই প্রস্তাব দিয়েছিল ইউআইডিএআই। তবে সরকারের নির্দেশের তীব্র বিরোধিতা করেছে অ্যাপল, স্যামসংয়ের মতো সংস্থাগুলি। গত ডিসেম্বর মাসেই কেন্দ্রীয় সরকারের সঞ্চারসাথী অ্যাপ প্রি-ইনস্টলের নির্দেশ নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছিল, ওই অ্যাপের আড়ালে আদতে দেশের মানুষের উপর নজরদারি বাড়াতে চাইছে মোদি সরকার। আধার অ্যাপ কী সেই উদ্দেশ্যেরই নয়া ফিকির? প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। যদিও কেন্দ্রের দাবি, আধার বাধ্যতামূলক করবার বিষয়ে কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। মানুষের সুবিধার জন্য নির্মাতা সংস্থাগুলিকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল মাত্র।
গত জানুয়ারি মাসেই নতুন আধার অ্যাপ এনেছে কেন্দ্র। যার মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য আপডেট করতে পারেন ব্যবহারকারীরা। পাশাপাশি পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের আধার অ্যাকাউন্টও পরিচালনা করতে পারেন। সেই অ্যাপটিই প্রি-ইনস্টল করবার নির্দেশ এসেছিল বলে জানা গিয়েছে। সেই নির্দেশ আসার পরই তীব্র বিরোধিতা করে ম্যানুফ্যাকচার্স অ্যাসোসিয়েশন ফর ইনফরমেশন টেকনলজি (এমএআইটি)। বড়োসড়ো নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কা করছে অ্যাপল, স্যামসংয়ের মতো সংস্থাগুলি। পাশাপাশি গত ১৩ জানুয়ারি এমএআইটি একটি ইমেলে জানিয়েছিল, আধার প্রি-ইনস্টল করতে হলে ভারতের জন্য আলাদাভাবে মোবাইল তৈরি করতে হবে। ফলে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
দিল্লির ইন্টারনেট ফ্রিডম ফাউন্ডেশন গ্রুপের উদ্যোক্তা অপার গুপ্তা বলেছেন, ‘কেন্দ্রের এই নির্দেশে স্পষ্ট, সরকার স্মার্টফোনের ব্যবহারের উপর আরো বেশি নিয়ন্ত্রণ চায়। যা বেশ সমস্যাজনক। ’ তবে এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি অ্যাপল ও স্যামসং। যদিও এক সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘মানুষের সুবিধার জন্যই এই অ্যাপ প্রি-ইনস্টল করবার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।কেউ চাইলে এই অ্যাপ ব্যবহার নাও করতে পারেন।’
গত ডিসেম্বর মাসেই সঞ্চার সাথী অ্যাপ প্রি-ইনস্টলের নির্দেশ ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এবার আধার অ্যাপ প্রি-ইনস্টল করার নির্দেশ। তবে এখানেই শেষ নয়, রয়টার্স সূত্রে খবর, যে ৬টি অ্যাপ সরকার প্রি-ইনস্টল করবার কথা বলেছিল আধার তাঁদের মধ্যে অন্যতম। তালিকায় রয়েছে বিপর্যয় সংক্রান্ত অ্যাপ স্যাচেটও। সেই অ্যাপের বিরোধিতা করে গত ১০ মার্চ সরকারকে চিঠি পাঠিয়েছে এমএআইটি।