নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘জিমা’ বা জার্নাল অব দি ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের নামে এক রহস্যময় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ঘিরে তুমুল রহস্য দানা বেঁধেছে। ডাঃ সুদীপ্ত রায় এবং ডাঃ শান্তনু সেনের গোষ্ঠীর মধ্যে বাগযুদ্ধ বেধেছে এবং একে অন্যকে বেকায়দা ফেলার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে বলে খবর। রহস্যের কারণ দু’টি। প্রথমত, ২০১৫ সালে এই অ্যাকাউন্ট খোলা হলেও ‘জিমা’র কাগজপত্রে অ্যাকাউন্টটি সম্পর্কে কোনও তথ্যই নেই। দ্বিতীয়ত, অ্যাকাউন্টটিতে ১ কোটি ৫৩ লক্ষ ৩৯ হাজার ৮৭৮ টাকা জমা পড়ে। আবার তুলে নেওয়া হয় ১ কোটি ৩১ লক্ষ ৯৯ হাজার ৫১ টাকা। তারপর লেনদেনহীন অবস্থায় ‘ডরমেন্ট’ হয়ে পড়ে ছিল ২২ লক্ষ ৪০ হাজার ৮২৭ টাকা।
কীভাবে এসব ঘটল, তা জানতে চেয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর সর্বভারতীয় আইএমএ’র সভাপতি ডাঃ দিলীপ ভানুশালী এবং সেক্রেটারি জেনারেল ডাঃ শর্বরী দত্ত চিঠি পাঠিয়েছেন। দু’জনেরই বক্তব্য, আইএমএ’র যুগ্ম আর্থিক সম্পাদক ডাঃ জ্যোতির্ময় পাল এই অ্যাকাউন্টটি সম্পর্কে তাঁদের অবহিত করেন। তারপরই যাঁদের সইয়ের উপর ভিত্তি করে সেই রহস্যময় অ্যাকাউন্টটি খোলা হয়েছিল, তাঁদের লিখিত জবাবদিহি চেয়ে পাঠানো হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ডাঃ শান্তনু সেন, ডাঃ কাকলি সেন সহ চার চিকিৎসক। আইএমএ’র যুগ্ম আর্থিক সম্পাদক ডাঃ পাল কোনও মন্তব্য করতে চাননি। ডাঃ শান্তনু সেন বলেন, ‘সমস্ত উত্তর দেওয়া হবে। ২০১৫ সাল নাগাদ আগের পদাধিকারীদের অপদার্থতায় আইএমএ দেনায় ডুবেছিল। জিমাকে অন্য রাজ্যে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছিল। ধার মেটাতে একটি কনফারেন্স করার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু আইএমএ’র প্রয়াত এক সর্বভারতীয় সভাপতির নির্দেশে অ্যাকাউন্টটি জিমার বলে দেখানো যায়নি। তাছাড়া, ২০১৭ সালের পর তো আমি নিজেই সর্বভারতীয় আইএমএতে চলে যাই। এসবের সঙ্গে তারপর কোনও সম্পর্ক ছিল না।’ আর ডাঃ সুদীপ্ত রায় বলেন, ‘গুরুতর অভিযোগ। তদন্ত হওয়া উচিত।’