


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সৌরজগতে প্রবেশ করেছে এক মহাজাগতিক বস্তু। সেটি মোটামুটি আমেরিকার ম্যানহ্যাটন শহরের মতো বড়ো। ব্যাসার্ধ প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার। তবে তা ভঙ্গুর। সেই বস্তু এগিয়ে চলেছে ৬০ কিলোমিটার প্রতি সেকেন্ডে। মহাকাশ বিজ্ঞানীরা মহাজাগতিক বস্তুটির নাম দিয়েছে ৩আই/অ্যাটলাস। তাকে ঘিরে বিজ্ঞানী থেকে মহাকাশ উত্সাহীদের মধ্যে কৌতূহলের শেষ নেই। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর জন্ম সৌরজগৎ সৃষ্টি হওয়ার আগে এবং জন্মস্থান সৌরজগতের বাইরে। কিন্তু মহাজাগতিক বস্তুটি পৃথিবীর আকাশে ধরা দিচ্ছে না। বুধবার রাত থেকে এটি সূর্যের পিছনে আশ্রয় নিয়েছে। কৌতূহলী অজস্র মন প্রশ্ন তুলছে, সবটাই কি প্রাকৃতিক? নাকি দূরে কোথাও প্রাণের জগত্ রয়েছে, এসব কি তাদেরই কারসাজি?
২০১৭ সাল থেকে ২০২৫-এর মধ্যে এই নিয়ে মোট ৩টি মহাজাগতিক বস্তুর (ইনটেস্টেলার অবজেক্ট) দেখা মিলল মহাকাশে। ২০১৭-তে বস্তুটি ছিল অউ মুয়া মুয়া তারপর ২০১৯ সালে বরিসেভ। এবারের বস্তুটি ১ জুলাই চিলির টেলিস্কোপ থেকে ধরা পড়েছে। বিড়লা ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড টেকনোলজিক্যাল মিউজিয়ামের (বিআইটিএম) এডুকেশন অফিসার তরুণ দাস বলছিলেন, ‘সৌরজগতের শেষ গ্রহ প্লুটোর পর রয়েছে কেইপার বেল্ট। সেখান থেকে ২০০ বছরের কম সময়ে ফিরে আসা ধূমকেতুগুলির জন্ম হয়। তারপর রয়েছে উর্ট ক্লাউড। সেখান থেকে জন্মায় ২০০ বছরের বেশি সময় পর ফেরা ধূমকেতুগুলি। ৩আই-এর জন্ম এসবের বাইরে। তার মধ্যে ৮ ভাগ কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও ১ ভাগ জল রয়েছে।’ কেন একে ধূমকেতু বলা হচ্ছে না? তরুণবাবুর ব্যাখ্যা, ‘সাধারণত ধূমকেতুর মধ্যে জল বেশি থাকে। এখানে তা নেই। এটি কঠিন থেকে সরাসরি গ্যাসীয় অবস্থায় পরিণত হচ্ছে। এর মধ্যে নেই লোহা, নিকেল রয়েছে। সাধারণ ধূমকেতুতে তা থাকে না।’ সাধারণত সূর্যের কাছে যাওয়ার পরেই পিছনে লেজ বা ঝাঁটা তৈরি হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে সেই লেজ তৈরি হয়েছে মঙ্গল গ্রহের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময়েই। অদ্ভুতভাবে সেই ঝাঁটা আলোকপিণ্ডর পিছনে নেই, রয়েছে সামনে।
মঙ্গল গ্রহের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তার একটি ছবি পাওয়া গিয়েছে। বিজ্ঞানীরা এর আরও তথ্য চান। পাবেন কীভাবে? পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্বই তো ১৫ হাজার কোটি কিলোমিটার। বস্তুটি রয়েছে তো সেই সূর্যের পিছনে! কয়েকবছর আগে ‘জুনো’ নামের একটি মহাকাশযান বৃহস্পতিতে পাঠিয়েছিল নাসা। সেই উপগ্রহের কাজ শেষে ধ্বংস করার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। কিন্তু ৩আইয়ের জন্য সেই উপগ্রহকে আবার জাগাবার পরিকল্পনা নিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। কারণ, নভেম্বর মাসজুড়ে সূর্যের পিছনে থাকার পর এই বস্তুটি বৃহস্পতির পাশ দিয়ে চলে যাওয়ার কথা। তরুণবাবুর কথায়, ‘কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূরে কী ঘটছে, দূরত্বের কারণে আমরা তা জানতে পারি না। এটা যে কতদূর থেকে আসছে, তা নিয়ে অঙ্ক কষা চলছে। কিন্তু এবার সেখান থেকে একটি বস্তু সৌরজগতে এসেছে। ফলত, এই বস্তুটি থেকে যদি কোনও তথ্য পাওয়া যায়, তবে তা মহাকাশ বিজ্ঞানের জন্য নতুন দিশা খুলে দিতে পারে।’ আজ, শুক্রবার ও শনিবার বিআইটিএমে ৩আই/অ্যাটলাসের গতিপ্রকৃতি ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হাতেকলমে দেখানো হবে।