সাধারণত ব্যাঙ্ক নোট দেখা যায় জোড় সংখ্যায়। ১০, ২০, ৫০, ১০০ কিংবা ৫০০। কিন্তু অদ্ভুত বিষয় হল, বিভিন্ন সময়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিজোড় সংখ্যার ব্যাঙ্ক নোটও প্রকাশিত হয়েছিল। একবার মায়ানমার সরকার বেশ কিছু বিজোড় সংখ্যার ব্যাঙ্ক প্রকাশ করেছিল। সেখানে ছিল ১৫, ৩৫ ও ৯৯ কিয়াত্। মিলিটারি ডিক্টেটর নে উইনের ছবি দেওয়া ছিল সেখানে। এই বিজোড় সংখ্যার নোট প্রকাশ হওয়ার কারণ কী? শোনা যায়, নো উইন সংখ্যাতত্ত্বে বিশ্বাস করতেন। কোনও এক জ্যোতিষী তাঁকে বলেছিলেন, এই নোট চালু করলে তিনি ৮০ বছর পর্যন্ত বাঁচবেন। তার পরেই নাকি এইসব নোট প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। উল্লেখযোগ্য বিষয়, ২০০২ সালে, ৯০ বছর বয়সে মারা যান নো উইন।
Advertisement
এখানেই শেষ নয়, ১৯৫৬ সালে ইন্দোনেশিয়া সরকার আড়াই রুপিয়ার একটি নোট প্রকাশ করে। আবার ১৯৭০ সালে নেদারল্যান্ডস আড়াই অ্যান্টিলিয়ান গুইল্ডের নোট প্রকাশ করেছিল। পাকিস্তানও একবার তাদের ৭৫ বছরের স্বাধীনতা দিবসে ৭৫ টাকার একটি নোট প্রকাশ করে। ১৯৭২ সালে রাজা বীরেন্দ্রর সিংহাসনে বসার রজত জয়ন্তী উপলক্ষ্যে নেপাল রাষ্ট্র ব্যাঙ্ক ১৯৯৭ সালে ২৫০ টাকার একটি নোট প্রকাশ করেছিল। আবার ২০১৬ সালে ফিজির রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ৭ ডলারের একটি নোট প্রকাশ করে। ২০২২ সালে ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজন করেছিল কাতার। সে বছর একটি ২২ রিয়াল নোটও প্রকাশ করা হয়। সেই নোটটিও বিভিন্ন প্রদর্শনীতে দেখতে পাওয়া যায়। এই ধরনের বিভিন্ন বিজোড় সংখ্যার নোট রয়েছে পেশায় স্কুলশিক্ষক দেবকুমার পালের সংগ্রহে। তিনি বলছিলেন, ‘এরকম মুদ্রা সংগ্রহ করা আমার শখ। বিভিন্ন সময় নানা কারণে এই ধরনের বিজোড় সংখ্যার ব্যাঙ্ক নোট প্রকাশিত হয়েছে। তারই কিছু সংগ্রহ করতে পেরেছি।’



