Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬

পাশ মার্কস ছাড়াই ‘উত্তীর্ণ’ ভবিষ্যতের ৫০ শতাংশ ডাক্তার

দেশজুড়ে ডাক্তারিতে ভর্তির অভিন্ন পরীক্ষা নিট ইউজির ফল প্রকাশ হয়েছে সদ্য। উত্তীর্ণ হয়েছেন মোট ১২ লক্ষ ৩৬ হাজার ৫৩১ জন। তাঁদের মধ্যে থেকেই আগামী দিনে কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে বাছাই করা হবে ভবিষ্যতের ডাক্তারদের।

পাশ মার্কস ছাড়াই ‘উত্তীর্ণ’ ভবিষ্যতের ৫০ শতাংশ ডাক্তার
  • ২২ জুন, ২০২৫ ০৪:০১

বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: দেশজুড়ে ডাক্তারিতে ভর্তির অভিন্ন পরীক্ষা নিট ইউজির ফল প্রকাশ হয়েছে সদ্য। উত্তীর্ণ হয়েছেন মোট ১২ লক্ষ ৩৬ হাজার ৫৩১ জন। তাঁদের মধ্যে থেকেই আগামী দিনে কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে বাছাই করা হবে ভবিষ্যতের ডাক্তারদের। কিন্তু সত্যিই কি তাঁরা যোগ‌্য? নিটের মাধ্যমে সত্যিই কি তাঁদের মেধা যাচাই হয়েছে? নাকি এটা আসলে দেশের প্রায় ৩৫০ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজের ‘ব্যবসা’ বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় সরকারের কৌশল মাত্র? এমনই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে নিট ইউজির ‘রেজাল্ট’ সামনে আসতেই। কারণ, সাধারণত যে কোনও স্কুল বোর্ডের পরীক্ষাতেই পাশ করার জন্য ৩০-৩৫ শতাংশ নম্বর পাওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু নিট ইউজির ক্ষেত্রে এমন কোনও নিয়ম নেই। শুধু অসংরক্ষিত শ্রেণির জন্য ৫০ পার্সেন্টাইল পেতেই হয়। সংরক্ষিতদের জন্য তা ৪০। কিন্তু এই নতুন পার্সেন্টাইল পদ্ধতিকে বাদ দিলে কত নম্বর পেয়েছেন উত্তীর্ণরা?  দেখা যাচ্ছে, তাঁদের অর্ধেকই মাত্র ১৫-৩৪ শতাংশের মধ্যে নম্বর পেয়ে ‘কোয়ালিফায়েড’ হয়ে গিয়েছেন। সংখ্যায় তাঁরা কম নন—৬ লক্ষ ৩৫ হাজার!

Advertisement

এক বিবৃতিতে এই তথ্য সামনে এনেছে খোদ নিটের আয়োজক সংস্থা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। অসংরক্ষিত শ্রেণিতে কাট অফ মার্কস ছিল ১৪৪। ৩ লক্ষ ৩ হাজার ৪০ জন পেয়েছেন ১৪৪ থেকে ২০০ নম্বর। ২০১ থেকে ২৫০ নম্বর পেয়ে পাশ করেছেন প্রায় ২ লক্ষ পরীক্ষার্থী। এখানেই শেষ নয়, এসসি, এসটি, ওবিসি, ইডব্লুএস, বিশেষভাবে সক্ষম ইত্যাদি আট ধরনের সংরক্ষিত শ্রেণির জন্য কাট অফ মার্কস ছিল কোথাও ১২৭, কোথাও ১২৬, কখনও ১১৩! মানে মাত্র ১৫-২০ শতাংশ পেয়েও পাশ করেছেন প্রায় ১ লক্ষ ৩৫ হাজার ৩৮০ জন। 
গোটা বিষয়টি উদ্বেগ বাড়িয়েছে বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ সৌমিত্র ঘোষের। তিনি বলেন, ‘এমবিবিএস আসন সংখ্যা এক লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে। সম্ভবত এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই কোয়ালিফায়েডের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। তাহলেও এটা যথেষ্ট চিন্তার বিষয়।’ মেধা যাচাইয়ে পার্সেন্টাইল নয়, পার্সেন্টেজ ফিরিয়ে আনার দাবি তুলেছেন নিটের বিশিষ্ট শিক্ষক ডাঃ এ কে মাইতি। অভিভাবকদের সংগঠনের অশোককুমার শূর বলেন, ‘পয়সা দিয়ে ডাক্তার তৈরি করাটা লক্ষ্য হতে পারে না। ওইভাবে ডাক্তার তৈরি হলে তাঁরা টেনশনে থাকবেন। আমরাও বিপদে থাকব!’ 

সম্পর্কিত সংবাদ