Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নিউটাউনে স্করপিও থেকে উদ্ধার ৫ কোটি, ভোটের আগে কোথায় যাচ্ছিল টাকা? তদন্তে এসটিএফ

এসআইআর পর্ব চলছে জোরকদমে। আর তার ঠিক পরই ভোট ঘোষণা। ঠিক এই কারণেই  রাজ্যে বেড়েছে এজেন্সি সক্রিয়তা। তৎপর রাজ্যের পুলিশও।

নিউটাউনে স্করপিও থেকে উদ্ধার ৫ কোটি, ভোটের আগে কোথায় যাচ্ছিল টাকা? তদন্তে এসটিএফ
  • ১৮ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এসআইআর পর্ব চলছে জোরকদমে। আর তার ঠিক পরই ভোট ঘোষণা। ঠিক এই কারণেই  রাজ্যে বেড়েছে এজেন্সি সক্রিয়তা। তৎপর রাজ্যের পুলিশও। হাওলার মাধ্যমে আসা টাকা ধরতে বিভিন্নভাবে নজরদারি চলছে। এই আবহেই নিউটাউনের আকাঙ্ক্ষা মোড় থেকে ৫ কোটি টাকা উদ্ধার করল বেঙ্গল এসটিএফ। গ্রেফতার করা হয়েছে সিউড়ির বাসিন্দা আক্রাম খান ও ইমরান খান নামে দুই ব্যক্তিকে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে একটি স্করপিও গাড়ি। এই টাকা কোথায়, কার কাছে যাওয়ার প্ল্যান ছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে।

Advertisement

তদন্তকারীদের কাছে খবর আসছিল, নির্দিষ্ট একটি স্করপিও গাড়ি সন্দেহজনকভাবে কলকাতায় নিয়মিত যাতায়াত করছে। তার নম্বর প্লেট সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। জানা যায়, ওই নম্বরটি  বীরভূমের। দক্ষিণবঙ্গের ওই জেলা থেকে কলকাতা আসার পথে যে ক’টি টোল রয়েছে, সেখান থেকে গাড়িটির বিস্তারিত তথ্য জোগাড় করেন অফিসাররা। একটিই প্রশ্ন প্রাথমিকভাবে দানা বাঁধে—এত ঘনঘন সিউড়ি থেকে সেটি কলকাতায় আসছে কেন? তাঁদের সন্দেহ হয়, গাড়িতে করে আগ্নেয়াস্ত্র বা নিষিদ্ধ মাদক আনা হচ্ছে শহরে। রবিবার সকাল ১০টা নাগাদ এসটিএফের কাছে সোর্স মারফত খবর আসে, গাড়িটি কলকাতায় আসছে। বর্ধমানের দিক থেকে ঢুকছে শহরে। সেইমতো টোলগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করে গাড়ির নম্বর মিলিয়ে নিশ্চিত হন অফিসাররা। কলকাতা সহ নিউটাউনের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে এসটিএফ। ওই স্করপিওটি নারায়ণপুর থানা এলাকার আকাঙ্ক্ষা মোড়ে পৌঁছোতেই সেটি আটক করেন অফিসাররা। গাড়িতে তল্লাশি চালাতেই দেখা যায়, সিটের নীচে প্যাকেটের মধ্যে তাড়া তাড়া নোট। গোনার পর এসটিএফের অফিসাররা দেখেন, সব মিলিয়ে পাঁচ কোটি টাকা রয়েছে। গাড়িতে থাকা দু’জনের কাছে তদন্তকারীরা জানতে চান, এই টাকা কোথা থেকে এল? এই সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি চাওয়া হয়। কেউ টাকা লেনদেনের কোনও নথি দেখাতে পারেনি। এরপরই বাজেয়াপ্ত করা হয় ওই টাকা। গ্রেফতার হয় দু’জন। সোমবার এই দুই অভিযুক্তকে বারাকপুর আদালতে তোলা হলে সরকারি কৌঁসুলি যদুনাথ ঘোষ বলেন, ‘ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে হবে টাকা কী কারণে আনা হয়েছিল।’ তখনই তাদের পুলিশ হেফাজতের জন্য আবেদন করেন সরকার পক্ষের আইনজীবী। সওয়াল শেষে বিচারক আক্রাম ও ইমরানকে সাতদিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠান।
প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীরা জানতে পারছেন, বীরভূমে অবৈধ বালি ও পাথর খাদানের লেনদেন পুরোটাই চলে নগদে। কোটি কোটি টাকার ‘কারবার’। অবৈধ এই সিন্ডিকেটের এক বড় মাথা তার দুই সহযোগীর মাধ্যমে টাকা কলকাতা পাঠাচ্ছিল। শহরের একটি ফ্ল্যাটে আসার কথা ছিল তাদের। সেখান থেকে টাকা চলে যেত অন্যত্র। সেই ঠিকানা কার? উদ্দেশ্য কী ছিল? ধৃতদের জেরা শুরু করেছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।  

সম্পর্কিত সংবাদ