Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

৩৫০ সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও আর্থিক পুরস্কারেই চুরির কিনারা

মন্দির থেকে প্রায় ১৫ ভরি গয়না চুরি! কোনও বিশেষ ক্লু ছিল না। ভরসা বলতে শুধু এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ।

৩৫০ সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও আর্থিক পুরস্কারেই চুরির কিনারা
  • ২০ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: মন্দির থেকে প্রায় ১৫ ভরি গয়না চুরি! কোনও বিশেষ ক্লু ছিল না। ভরসা বলতে শুধু এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ। ফুটেজ দেখতে দেখতে শহর ছাড়িয়ে পুলিস পৌঁছে গিয়েছিল মফস্সলে! স্টেশনেই মিলেছিল ছবি। তারপর একাধিক স্টেশনের ক্যামেরায় দেখা গিয়েছে ট্রেনের জানালায় হেলান দিয়ে বসে বাড়ি ফিরছে ‘দুষ্কৃতীবাবু’! সংখ্যার হিসেব ৩৫০-এরও বেশি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ঘাঁটা হয়েছে। তবে, শুধু ফুটেজ নয়, তাকে ধরতে ১০ হাজার টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল পুলিস। ছবি সহ পোস্টার সাঁটানো হয়েছিল বিভিন্ন এলাকায়। আর তাতেই সাফল্য পেল বাগুইআটি থানার পুলিস। কালীমন্দিরে গয়না চুরির ঘটনায় নদীয়ার চাকদহ থেকে গ্রেপ্তার করা হল অভিযুক্তকে। সেই সঙ্গে যাকে গয়না বিক্রি করেছিল, সেই রিসিভারকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

Advertisement

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোররাতে বাগুইআটির গোবিন্দ শেঠ বাজারে বাজার কমিটির কালীমন্দিরে চুরি হয়। সকালে বিষয়টি জানাজানি হতেই স্পেশাল টিম গঠন করে বাগুইআটি থানা। আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ শুরু হয়। বাগুইআটি, লেকটাউন, উল্টোডাঙার পর দমদম স্টেশনে ওই দুষ্কৃতীকে শনাক্ত করা হয়। দেখা যায়, সে কৃষ্ণনগর লোকালে উঠছে। কোন স্টেশনে নামছে, তা দেখতে দমদম থেকে কৃষ্ণনগরগামী পরপর স্টেশনের দিকে নজর রাখা হয়। নৈহাটি পর্যন্ত তাকে জানালার ধারে বসে থাকতে দেখা যায়। তারপর দেখা যায়নি। পুলিস তার ছবি ছাপিয়ে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে। ওই পোস্টার নৈহাটির পর থেকে কৃষ্ণনগর পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় ছড়ানো হয়।
এক যুবক পোস্টারের ছবি দেখে বাগুইআটি থানায় ফোন করে জানান, চাকদহের রবীন্দ্রনগর এলাকায় এইরকম দেখতে একজন ব্যক্তি রয়েছে। তারপরই সোমবার রাতে বাগুইআটি থানার পুলিস সেখানে হানা দিয়ে তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। যে যুবক খবর দিয়েছিলেন, তাঁর কাছে পুরস্কার মূল্য পাঠানো হচ্ছে। ধৃতকে জেরা করে রিসিভারের কাছ থেকে চুরির বেশিরভাগ গয়নাও উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগেও সে একাধিক জায়গায় চুরি করেছে বলে অভিযোগ। বুধবার বাগুইআটি থানায় বিধাননগরের ডেপুটি পুলিস কমিশনার (এয়ারপোর্ট) ঐশ্বর্য সাগর সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, ধৃতের নাম রাজেশ দে। সে বাড়ি বাড়ি ফেরিওয়ালার কাজ করে। সেই সুযোগে এলাকায় ঘুরত। যে কোনও চুরির আগে সে ১৫ দিন ধরে রেকি করত।
 

সম্পর্কিত সংবাদ