


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আধার নম্বরের সূত্র ধরে জালিয়াতদের গ্রেপ্তার করল কাশীপুর থানা। মিথেশ কুমার ও গঙ্গা সাউ নামে দুই অভিযুক্তের বাড়ি বিহারের সমস্তিপুরে। শনিবার রাতে নিউ মার্কেট এলাকার একটি পানশালায় মদ্যপান করতে এসে তারা ধরা পড়ে। ঋণ দেওয়ার নাম করে ক্যানসেলড চেক হাতিয়ে তারা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিচ্ছিল বলে অভিযোগ। রীতিমতো একটি চক্র গড়ে তারা এই অবৈধ কারবার চালাচ্ছে বলে জানাচ্ছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রের খবর, কাশীপুর থানা এলাকার এক ব্যবসায়ীর এক কোটি টাকা ঋণের দরকার ছিল। বিভিন্ন ব্যাংকে ঘুরেও তিনি তা পাচ্ছিলেন না। এইসময় তাঁর সঙ্গে পরিচয় অভিযুক্ত দুজনের সঙ্গে। তারা দাবি করে, একটি বেসরকারি ব্যাংকে ‘লোন এজেন্ট’ হিসেবে তারা কাজ করে। সেইমতো ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বিভিন্ন নথি চেয়ে নেওয়া হয়। পরে জানায়, তাঁর চাহিদা মতোই এক কোটি টাকার লোন হয়ে যাবে। ব্যাংক তাঁর সমস্ত তথ্য যাচাই করার পরই‘কনফার্ম’ করেছে।
পুলিশ জানায়, এরপর ওই ব্যবসায়ীকে একটি ফর্মে সই করানো হয়। দুটি ক্যানসেলড চেক নেয় অভিযুক্ত। তারা একটি বিশেষ পেন এগিয়ে দেয় অভিযোগকারী ব্যবসায়ীর কাছে। সেটি দিয়ে ‘ক্যানেসেলড’ লিখতে বলা হয়। ব্যবসায়ী তাদের কথামতো দুটি চেক দেন। কয়েকদিন পর ওই ব্যবসায়ীর কাছে একটি মেসেজ আসে। দেখা যায়, তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে তিন লক্ষ টাকা উধাও! ওই চেকদুটি ব্যবহার করেই টাকাগুলি তোলা হয়েছে। তিনি মাসদুই আগে এই নিয়ে কাশীপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
তদন্তে নেমে অফিসাররা চেকের নথি সংগ্রহ করেন। ব্যাংকের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ এবং যে অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়েছে তার তথ্য নেন তাঁরা। অফিসারদের নজরে আসে, চেক তুলতে আসা ব্যক্তি ব্যাংকে আধার জমা দিয়েছে। কিন্তু আধারের ছবির সঙ্গে ব্যাংকে চেক তুলতে আসা ব্যক্তির মুখের মিল পাওয়া যাচ্ছিল না। তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন যে টাকা অন্য কেউ তুলেছে। আধারের নম্বরের সূত্র ধরে জানা যায়, এটা মিথেশ কুমারের ‘কীর্তি’। সেখানে তার ছবির জায়গায় অন্য এক ব্যক্তির ছবি লাগানো হয়েছে। বিহারের সমস্তিপুরে যায় পুলিশের টিম। সেখানে গিয়ে অফিসাররা জানতে পারেন, মিথেশ একটা পাক্কা জালিয়াত। ব্যাংকলোন পাইয়ে দেবার নামে সে নানা জায়গায় প্রতারণা করে বেড়ায়। বর্তমানে সে বেহালায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকে। তার ফোন নম্বর হাতে আসে পুলিশের।
তদন্তকারীরা কলকাতায় ফিরে লক্ষ করেন যে, মিথেশ কুমারের মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন রয়েছে নিউমার্কেট এলাকার একটি পানশালায়। সেইমতো পুলিশ টিম শনিবার সেখানে হানা দিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের জেরা করে জানা যায়, কলকাতায় লোন পাইয়ে দেওয়ার নাম করে সে তার ‘শিকারের’ ব্যাংকের ক্যানসেলড চেক হাতায়। তারপর ভ্যানিশিং রাসায়নিক দিয়ে ‘ক্যানসেলড’ শব্দটি তুলে দেয়। গ্রাহকের সই জাল করে সেখানে টাকার অঙ্ক বসিয়ে তা তুলে নেয় ব্যাংক থেকে। এই কারণেই ঋণের আবেদনকারীকে বিশেষ কালির পেন দেয় জালিয়াত। মতলব হচ্ছে, ‘ক্যানসেলড’ শব্দটি সহজেই ভ্যানিশ করে ফেলা। কাশীপুরের ব্যবসায়ীর সঙ্গে এই কায়দায় প্রতারণা করেছে অভিযুক্ত। এছাড়া আরও অনেকের সঙ্গে তারা জালিয়াতি করেছে বলে পুলিশের দাবি।