


হায়দরাবাদ: বাসের একাংশ ভেঙে ভিতরে ঢুকে গিয়েছে লরি। লরিতে থাকা স্টোনচিপসে ভরে গিয়েছে গোটা বাস। সর্বত্র ছড়িয়ে দেহাংশ। স্টোনচিপস সরিয়ে আহতদের উদ্ধারে আপ্রাণ চেষ্টা চলছে। সোমবার সকালে তেলেঙ্গানার রঙ্গারেড্ডি জেলায় বাস ও লরির ভয়াবহ সংঘর্ষের ছবি দেখে শিউরে উঠছে গোটা দেশ। রাত পর্যন্ত খবর অনুযায়ী অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু ঘটেছে। আহত বহু। এদের মধ্যে অনেকেই আশঙ্কাজনক। ফলে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে।
জানা যাচ্ছে, নির্মাণ সামগ্রী বোঝাই একটি লরি বেপরোয়া গতিতে এসে ধাক্কা মারে তেলেঙ্গানা রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের একটি বাসে। তন্দুর থেকে হায়দরাবাদগামী এই বাসে ছিল ৭০ জন যাত্রী। ভয়াবহ এই সংঘর্ষে বাসের একটি অংশ দুমড়ে মুচড়ে গিয়েছে। মৃত্যু হয়েছে দুটি গাড়ির চালক সহ অন্তত ১৭ যাত্রীর। মৃতের তালিকায় রয়েছে একটি ১০ মাসের শিশুও। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে যায় উদ্ধারকারী দল। তখনও বহু যাত্রী আটকে ছিলেন স্টোনচিপসের পাহাড়ে। আর্থমুভার ব্যবহার করে, বাসের বিভিন্ন অংশ কেটে তাঁদের উদ্ধার করতে বেশ বেগ পেতে হয়। আহত যাত্রীদের চেভেল্লা সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আশঙ্কাজনকদের স্থানান্তরিত করা হয়েছে গান্ধী ও ওসমানিয়া হাসপাতালে।
জানা যাচ্ছে, বাসের ড্রাইভারের পিছনে থাকা ৬টি আসন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে থাকা যাত্রীদের দেহ কার্যত দলা পাকিয়ে গিয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পাওয়া এক যাত্রী জানিয়েছেন, ‘উল্টোদিক থেকে এসে বেপরোয়া গতির লরিটি ধাক্কা মারে বাসের ডানদিকে। মুহূর্তে বাসের একাংশ গুড়িয়ে চায়, ছড়িয়ে পড়ে লরিতে থাকা স্টোনচিপস। বাসের বাঁদিকে থাকা যাত্রীরা জানালা গিয়ে কোনও ক্রমে বের হতে পারলেও ড্রাইভারের পিছনে থাকা যাত্রীদের কাছে সেই সুযোগ ছিল না।’ শেখ আমের নামের আর এক যাত্রী জানিয়েছেন, ভয়াবহ দুর্ঘটনা প্রাণ কেড়েছে তাঁর স্ত্রী, বাবা ও ৪১ দিনের কন্যাসন্তানের। তিনি বলেছেন, ‘সদ্যোজাত কন্যাসন্তানকে নিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গ্রামে গিয়েছিলাম। এমন ভয়াবহ পরিণতির কথা দুঃস্বপ্নেও ভাবিনি।’ অন্যদিকে দুর্ঘটনায় তিন মেয়েকেই হারিয়েছেন তন্দুর শহরের বাসিন্দা অম্বিকা। শোকে বিহ্বল মা মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে জানালেন, ‘পড়াশোনার জন্য হায়দরাবাদে যাচ্ছিল মেয়েরা। গতকালই ওঁদের যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটা হলে এই মর্মান্তিক পরিণতি হত না।’
ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি। আধিকারিকদের ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজে সহযোগিতার নির্দেশ দেন তিনি। ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, ‘রঙ্গারেড্ডির ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা, আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।’ নিহতদের পরিবার ও আহতদের জন্য যথাক্রমে ২ লক্ষ ও ৫০ হাজার টাকার আর্থিক সাহায্যেরও ঘোষণা করা হয়েছে।