


নয়াদিল্লি: ২১ জুলাইয়ের বিকেল। পাঁচটা বাজতে মিনিট দশেক বাকি। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই দিনের মতো স্থগিত হবে বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনের কাজকর্ম। রাজ্যসভার সচিবালয়ে এসে পৌঁছল একটি মুখবন্ধ খাম। ওই মুখবন্ধ খামেই উপ রাষ্ট্রপতি তথা রাজ্যসভার চেয়ারম্যান পদে জগদীপ ধনকারের ভাগ্য লিখে ফেলেছিল মোদি সরকার।
পর্দার আড়ালে কী এমন ঘটল? সূত্রের খবর, সংকটের সূত্রপাত ২১ জুলাইয়ের সকালে। রাজ্যসভার বিজনেস অ্যাডভাইসরি কমিটির (বিএসি) বৈঠকে অংশ নেওয়া মন্ত্রীদের ধনকার বলেন, অপারেশন সিন্দুর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি কবে রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখবেন? তাঁর ওই মন্তব্যে মন্ত্রীরা ক্ষুব্ধ হন। তাঁরা সাফ জানিয়ে দেন, এই সিদ্ধান্ত অন্য কেউ নিতে পারেন না। বৈঠকের পর মধ্যাহ্নভোজ সারতে বাসভবনে যান ধনকার। সেই সময় তাঁর মোবাইলে দু’বার ফোন করেন প্রবীণ এক মন্ত্রী। কিন্তু সেই ফোন ধনকার ধরেননি। বিকেল চারটেয় সদনে ফিরে সরকারের অবস্থানের ভিন্ন পথে হেঁটে বিচারপতি ভার্মার ইমপিচমেন্ট সংক্রান্ত বিরোধীদের আনা নোটিসের কথা উল্লেখ করেন। তখনই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে, আর নয়। বিকেল সাড়ে চারটেয় বিএসির দ্বিতীয় বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। সেখানে সরকারের কোনও প্রতিনিধি আসেননি। কারণ ততক্ষণে ধনকারকে পদ থেকে সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাজ্যসভার এনডিএ সাংসদরা প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের দপ্তরে হাজির হন। ধনকারকে পদ থেকে সরানোর প্রস্তাবে সই সংগ্রহ শুরু হয়। মোট ১৩৪ জন এনডিএ সাংসদ স্বাক্ষর করেন। মুখবন্ধ খামে প্রস্তাব যায় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়ালের কাছে। তিনি সেই মুখবন্ধ খাম বিকেল ৪টে ৫০ মিনিটে রাজ্যসভার সচিবালয়ে জমা দেন। অন্য কোনও রাস্তা খোলা নেই বুঝে ওইদিন রাতেই ইস্তফা দেওয়ার ঘোষণা করেন ধনকার।