বিশেষ সংবাদদাতা, ইটানগর: অরুণাচল প্রদেশের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অবিরাম বৃষ্টিপাতের জেরে রাজ্যের একাধিক জেলায় ভূমিধস এবং বন্যা দেখা দিয়েছে। স্টেট ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার জানিয়েছে, ভূমিধস ও বন্যার ফলে এখনও পর্যন্ত ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে ভূমিধসে ন’জন, বন্যায় একজন, দেয়াল ভেঙে একজন এবং লংডিংয়ে গাছ ভেঙে পড়ায় আরও একজনের মৃত্যু ঘটেছে। বুধবার পর্যন্ত রাজ্যের ২৩টি জেলায় তিন হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বুধবার আনজাওয়ের দিবাং উপত্যকা এবং লিকাবালি-আলো হাইওয়ের কাছে নতুন করে ভূমিধসের খবর পাওয়া গিয়েছে। এর ফলে রাজ্যে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অরুণাচল প্রদেশে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চাংলাং জেলা। সেখানে কমপক্ষে ছয়টি গ্রাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত। ২ হাজার ২৩১ জন মানুষ ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। এদিন জোলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে দ্রি নদীর উপর অবস্থিত এমু হ্যাঙ্গিং সেতু। এছাড়াও মাওয়ালি গ্রামে অবস্থিত দু’টি ফুট ব্রিজও ভেঙে পড়েছে। এর ফলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দুই গ্রাম। রাজ্যজুড়ে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর, রাজ্য পুলিস এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা উদ্ধার কাজ এবং বন্যা কবলিত মানুষের কাছে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে।
বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে অসমেও। নর্থইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলের অন্তর্গত শিলচর ডিভিশনের অনেক লাইনই জলের নীচে। এর জেরে দক্ষিণ অসমে ট্রেন পরিষেবা বিপর্যস্ত। বরাক উপত্যকার সঙ্গে বাকি দেশের রেলপথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম বদরপুর-লামডিং হিল সেকশন। এই সেকশনে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখতে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে। মণিপুরে মৃত্যু হয়েছে ৫৫ বছর বয়সি এক ব্যক্তির। বন্যার জেরে এটাই প্রথম মৃত্যু মণিপুরে।
সূত্রের খবর, রবিবার আবুলক নদীতে জলের তোড়ে ভেসে যান তেখেলামবাম ইবোচৌবা। বুধবার তাঁর দেহ উদ্ধার হয়েছে। মণিপুরে বন্যা কবলিত প্রায় ১ লক্ষ ৬০ হাজার মানুষ।