


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সরকারি এবং বেসরকারি মিলিয়ে দেশের বিভিন্ন স্কুলে প্রায় ১০ লক্ষ শিক্ষক পদ খালি রয়েছে। অথচ এই ব্যাপারে মোদি সরকারের কোনও হুঁশ নেই। এই ইস্যুতে শিক্ষা সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তোপের সামনে পড়তে হয়েছে কেন্দ্রকে। সরকারকে কার্যত তুলোধোনা করেছে কংগ্রেস সাংসদ দিগ্বিজয় সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ওই সংসদীয় কমিটি। পাশাপাশি দেশের বিদ্যালয়গুলিতে অযথা চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ না করারই সুপারিশ করেছে কমিটি। পরিবর্তে স্থায়ী নিয়োগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট রিপোর্টে শিক্ষা সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি জানিয়েছে, দেশের প্রায় ১৪ লক্ষ ৮০ হাজার স্কুলের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালনা করে মাত্র হাজার তিনেক বিদ্যালয়। এহেন কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় (কেভি), নবোদয় বিদ্যালয়ের (এনভি) মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতেও শিক্ষকের শূন্যপদ যথেষ্ট উদ্বেগজনক। কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়, নবোদয় বিদ্যালয়ের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে সার্বিকভাবে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ শিক্ষক পদই শূন্য। রিপোর্টে রীতিমতো অভিযোগ করা হয়েছে, চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ করেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে। অথচ সংসদীয় কমিটি বারবার স্থায়ী নিয়োগের ব্যাপারে সুপারিশ করে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে সংসদীয় কমিটির ফের সুপারিশ, স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের পথেই হাঁটা প্রয়োজন। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যেই এই সংক্রান্ত যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা প্রয়োজন।
সংসদীয় কমিটি রিপোর্টে জানিয়েছে, চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ করলে দেশের সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থার উপরই ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। তেমনই সরকারি চাকরিতে তফসিলি জাতি, উপজাতি, ওবিসি, শারীরিক প্রতিবন্ধী, ইডব্লুএসদের জন্য যে সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে, তাও লঙ্ঘন হয়। একইসঙ্গে রিপোর্টে ন্যাশনাল কাউন্সিল অন টিচার এডুকেশনে (এনসিটিই) স্থায়ী কর্মচারী নিয়োগের উল্লেখও করেছে সংসদীয় কমিটি। এক্ষেত্রে গ্রুপ এ, গ্রুপ বি এবং গ্রুপ সি প্রতিটি ক্যাটিগরিতেই আধিকারিকদের শূন্যপদ রয়েছে। আগামী বছর ৩১ মার্চের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুপারিশ করা হয়েছে। রিপোর্টে সাফ বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের পর থেকে এনসিটিইতে নিয়োগ প্রক্রিয়াই হয়নি। বুধবার এই ব্যাপারে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশও।