চণ্ডীগড়: ওষুধের দোকানে মাদক বিক্রি বন্ধ করতে গিয়ে ব্যবসায়ীর গুলিতে খুন প্রতিবাদী যুবক। পাঞ্জাবের মানসায় মঙ্গলবারের এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে বিরোধীরা। তাদের দাবি, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ রাজ্যের আম আদমি পার্টি সরকার।
বেশ কয়েক বছর ধরে মানসা ও সংলগ্ন এলাকায় ওষুধের দোকান থেকে মাদক বিক্রির বিরুদ্ধে প্রচার চালাতেন নিহত যুবক পারবিন্দর সিং ঝোটা। যে সব ওষুধের দোকানে মাদক বিক্রি হত, সেখানেও ‘অভিযান’ চালাতেন তিনি। এদিনও সেরকমই একটি দোকানে গিয়েছিলেন তিনি। বচসা চলাকালীন ওই পারবিন্দরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় ওই ব্যবসায়ী। ঘটনাস্থলেই মারা যান ওই যুবক। অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। ফেসবুকে পারমিন্দরের ২৪ হাজারের বেশি ফলোয়ারও রয়েছে। ২০২৩ সালেও এক দোকানদারের সঙ্গে হাতাহাতির জেরে তাঁকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। এদিনও সঙ্গীদের নিয়ে একটি দোকানে যান তিনি। ফেসবুকে পোস্ট করা ভিডিয়োতে দোকানের মালিককে পিস্তল উঁচিয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। তখন পারবিন্দরকে বলতে শোনা যায়, ‘মার মুঝে, মার মুঝে’। এরপরই গুলির শব্দ শোনা যায়। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন পারবিন্দর। ঘটনার প্রতিবাদে পারমিন্দারের সমর্থকরা মানসার হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ দেখান। মৃতের বাবার বক্তব্য, ‘মাদক পাচারকারীরাই আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। কেন্দ্র যেন অবিলম্বে পাঞ্জাবের আপ সরকারকে বরখাস্ত করে। এখানে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হয়।’ বিচার না মেলা পর্যন্ত ছেলের অন্ত্যেষ্টি করবেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি। বিজেপি নেতা সুনীল জাখরের অভিযোগ, এই ঘটনায় পাঞ্জাব সরকারের মাদক বিরোধী প্রচার অভিযানের ‘সত্যতা’ ফাঁস হয়ে গেল। কংগ্রেস নেতা অমরিন্দর সিং রাজা বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলাতে যে পাঞ্জাব সরকার ব্যর্থ, তা পারবিন্দরের খুনে প্রমাণিত।’ একই অভিযোগ শিরোমণি অকালি দলেরও।



