লখনউ: মা-বাবাকে সঙ্গে নিয়ে বিমান সফর করবেন। এই ছিল নিধি সিংয়ের ইচ্ছা। আর তার জন্য অপেক্ষা করতে হল ২১টা বছর। নেহাতই এক ইনস্টাগ্রাম ইউজার হিসাবে নিধি তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে এয়ারপোর্টের কিছু ছবি ও ভিডিয়ো পোস্ট করেন। তাতে কখনও প্রৌঢ় দম্পতিকে বিমানবন্দর চত্বরে হাঁটতে দেখা গিয়েছে। আবার কোনো ছবিতে বিমানের ভিতর নিধি মায়ের পাশে বসে। অন্য একটি ভিডিয়োয় বিমান চলাকালীন ভিতর থেকে মেঘের ভিডিয়ো। বিষয়টা হয়তো অনেকের কাছেই অত্যন্ত সাধারণ ব্যাপার। কিন্তু নেহা ও তাঁর বাবা-মায়ের প্রথমবারের বিমান সফরের যে আনন্দ তা প্রত্যেকের মুখেই দরাজ ফুটে উঠেছে। আর তাঁদের সেই আবেগকেই কুর্ণিশ জানিয়েছেন নেটমহলের সকলে। নেহা নিজেও বিষয়টিকে সাধারণ বলে ব্যাখ্যা করেও লিখেছেন যে, তাঁর জন্য এটা অনেক বড়ো ব্যাপার।
নেহা লেখেন, ‘বাবা-মায়ের সঙ্গে প্রথমবার বিমানে ওঠা হয়তো অনেকের কাছেই অত্যন্ত সাধারণ বিষয়। কিন্তু আমার জন্য এটা স্বপ্ন সার্থক হওয়ার মতো।’ শুধু তাই নয়। এই ঘটনার সঙ্গেই তিনি নিজের শৈশবের কথা টেনে এনেছেন। নেহা বলছেন, আমাকে বড়ো করে তুলতে মা-বাবা অনেক সাহায্য করেছেন। ছোটবেলায় তাঁরাই আমাকে হাত ধরে হাঁটতে শিখিয়েছেন। এবার এটা আমার দায়িত্ব যাতে বাবা-মায়ের বিমান সফর সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, তা দেখা। ভিডিয়োয় দেখাও যাচ্ছে, বিমানবন্দরে প্রবেশের পর কোন রাস্তা দিয়ে গিয়ে বোর্ডিং পাস নিতে হয়, তারপর কোথায় অপেক্ষা করতে হয় এবং তারপর কোথা থেকে বিমানে উঠতে হয়, সবটাই বাবা-মাকে বলে বলে দিচ্ছেন নেহা। শেষমেশ উড়ানে উঠে তিনজনের হাসিমুখের ছবি। সেই ছবিতেই তাঁদের মুখেচোখে আনন্দের ছাপ স্পষ্ট।
নেহার পোস্টে অনেকেই বলছেন, সামান্য জিনিসেও যে মানুষ এতটা খুশি হতে পারে, সেটা নেহাকে দেখে শেখা উচিত। আর এক ইউজার বলেন, ‘গর্বের মুহূর্ত’। আর একজন লিখেছেন, ‘আশা করছি, জীবনের এই সুন্দর মুহূর্তটা আপনারা তিনজনেই আনন্দের সঙ্গে উপভোগ করেছেন।’ আর একজন আবার বলছেন, ‘খুব আবগেপ্রবণ মুহূর্ত।’
আসলে নেটিজেনরাও নেহার জীবনের এই সাধারণ মুহূর্তেরও গুরুত্ব বুঝেছেন। ঘটনাটি ছোটো হলেও বাবা-মায়ের সঙ্গে কাটানো বিমান সফর নিয়ে নেহা যতটা আবেগপ্লুত, তারই শরিক হয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ার অন্য ইউজাররা।a



