


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ‘স্ত্রী অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত। আর তাতে মদত দিচ্ছেন শাশুড়ি।’ দু’পাতার সুইসাইড নোটে স্ত্রী, তার প্রেমিক ও শাশুড়িকে দায়ী করে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হলেন তমলুক থানার শ্রীরামপুর এলাকার এক যুবক। মৃতের নাম সৌমেন প্রামাণিক(৪০)। বৃহস্পতিবার ভোরে শ্রীরামপুর গ্রামে ভাড়াবাড়ি থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। যদিও ওই ঘটনার পর মৃতের স্ত্রী, তার প্রেমিক ও শাশুড়ি প্রত্যেকেই মোবাইল বন্ধ করে গা ঢাকা দিয়েছেন। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। এদিন দুপুরে নিহত যুবকের দাদা সোমনাথ প্রামাণিক তিনজনের বিরুদ্ধে তমলুক থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন।
জানা গিয়েছে, সৌমেনবাবুর পৈত্রিক বাড়ি তমলুক থানার পদুমপুর গ্রামে। নন্দকুমার অন্তর্গত এসপোল এলাকার সুনীতা প্রামাণিককে বিয়ে করার পর ঘরজামাই ছিলেন। সৌমেনবাবু পেশায় মাছের গাড়ির চালক। ওই দম্পতির এক মেয়ে আছে। বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই সুনীতাদেবী বাপেরবাড়ি চলে যান। বাধ্য হয়ে সৌমেনবাবুও শ্বশুরবাড়িতে থাকতে শুরু করেন। কিন্তু, প্রায়ই দাম্পত্য কলহের জেরে সৌমেনবাবু শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে শ্রীরামপুরে একটি ভাড়াবাড়িতে থাকতেন। বৃহস্পতিবার সকালে ওই ভাড়াবাড়ি থেকেই সৌমেনবাবুর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়।
শ্বশুরবাড়ি ছাড়লেও সৌমেনবাবু মাঝেমধ্যে স্ত্রী ও মেয়ের কাছে যেতেন। স্ত্রী পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে থাকায় তাঁর সঙ্গে ভালো ব্যবহার করত না বলে অভিযোগ। নন্দকুমার থানার এসপোল এলাকায় তমলুক-শ্রীরামপুর পিচ রাস্তার ধারে সৌমেনবাবুর শাশুড়ি একটি চপের দোকান চালান। সেই দোকানে সৌমেনবাবুর স্ত্রীও বসেন। ব্যাঙ্ক থেকে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর লোন নিয়ে প্রেমিককে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন বলেও সুইসাইড নোটে উল্লেখ করেছেন সৌমেনবাবু।
ডায়েরিতে দু’পাতার সুইসাইড নোট লিখেছেন সৌমেনবাবু। রাত দেড়টা নাগাদ বন্ধুদের সেই সুইসাইড নোট পাঠিয়ে আত্মঘাতী হচ্ছেন বলে মেসেজও পাঠান। কিন্তু গভীর হওয়ায় বন্ধুরা সকলেই ঘুমিয়েছিলেন। যেকারণে ওই সুইসাইড নোট ও মেসেজ কারও নজরে পড়েনি। বৃহস্পতিবার ভোরে প্রত্যেকে মোবাইলে সুইসাইড নোট দেখতে পান। তারপর শ্রীরামপুরে ভাড়াবাড়িতে গিয়ে সৌমেনবাবুর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। তমলুক থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিস গিয়ে দেহটি উদ্ধার করে।
মৃত যুবকের দাদা বলেন, ভাইয়ের সঙ্গে কথাবার্তা হতো। কিন্তু, দাম্পত্য জীবনের সমস্যার কথা আমাদের কখনও বলেনি। বিয়ের কয়েক মাস পরই ভাইয়ের বউ বাপেরবাড়ি চলে যায়। আমার ভাই তখন বাধ্য হয়ে ঘরজামাই থাকত। পরে শ্রীরামপুরে ভাড়াবাড়িতে থাকত। মারা যাওয়ার আগে ভাই তিনজনের নাম উল্লেখ করে তাদের শাস্তির দাবি করেছে। আমরাও তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য থানায় এফআইআর দায়ের করেছি।তমলুক থানার আইসি সুভাষচন্দ্র ঘোষ বলেন, যুবকের দেহ উদ্ধার হয়েছে। সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে।