সুদীপ্ত কুণ্ডু, হাওড়া: জমিদারি প্রথার হাত ধরে শুরু। সময়ের সঙ্গে বদলেছে সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। পেরিয়েছে নানা বাধা। তবু ঐতিহ্য মেনে আজও পুজো হয়ে আসছে মহিয়াড়ির ভট্টাচার্য বাড়িতে। এ বছর ৩৫১ বছরে পা দিল এই পরিবারের দুর্গাপুজো।
১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে বাংলায় জমিদারি ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। সেই সময় বাংলার অন্যতম জমিদার পরিবার ছিল হাওড়ার আন্দুলের কুণ্ডুচৌধুরীরা। তাঁদের দুর্গাপুজোও বহু প্রাচীন। সেই পুজোর জন্য পুরোহিতের প্রয়োজন হলে তৎকালীন ভট্টপাড়া থেকে মহেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে নিয়ে আসা হয় জমিদার বাড়িতে। তাঁকে বসবাসের জন্য জমিও দান করা হয়। পরবর্তীকালে মহিয়াড়িতে ভট্টাচার্য পরিবারের পরিচিতি গড়ে ওঠে। তাঁদের নামেই এলাকার নাম হয় ভট্টাচার্যপাড়া। সেখানে একটি টোল ছিল। কুণ্ডুচৌধুরী বাড়ির পুজোর পর মহেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য নিজের বাসস্থানেও দুর্গাপুজো শুরু করেন। ১৬৭৫ সালে শুরু হওয়া সেই পুজো বর্তমানে ৩৫১ বছরে পদার্পণ করল।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নানা সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতার কারণে ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত প্রায় দু’দশক মূর্তি গড়ে পুজো করা সম্ভব হয়নি। তবে সমস্ত উপাচার মেনে ঘটপুজো চলত। ১৯৬৪ সালে ফের মূর্তি গড়ে পুজো শুরু হয়। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সামবেদীয় শাস্ত্র মতে ষোড়শ উপচারে দেবীর আরাধনা হয় এই বাড়িতে। প্রতিপদ থেকে কল্পারম্ভ, ঘট স্থাপন ও চণ্ডীপাঠ শুরু হয়। মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী, মহানবমী ও বিজয়া দশমীতে মাকে দু’বেলা ভোগ নিবেদন করা হয়। পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য বলিদান প্রথা, যা সূচনালগ্ন থেকেই চলে আসছে। আগে অষ্টমী ও নবমীতে ছাগবলি হলেও করোনা পরবর্তী সময়ে তা বন্ধ। এখন নবমীতে তিন রকম ফল বলি দেওয়া হয়। বাড়িতে তৈরি নারকেল নাড়ু ছাড়া অন্য কোনো মিষ্টান্ন মাকে নিবেদন করা হয় না।নবমীতে কুমারী পুজো ও ধুনো পোড়ানো হয়। দশমীর সকালে বাড়ির ছোটো থেকে বড়ো— সকলে মাকে প্রদক্ষিণ করে মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে পুষ্পাঞ্জলি দেন। পরে মাকে পান্তা ভোগ নিবেদন করা হয়। সন্ধ্যায় বরণ ও সিঁদুরখেলার পর বিসর্জন। আগের প্রথা অনুযায়ী, প্রথমে ভট্টাচার্য পরিবারের প্রতিমা বিসর্জনের পর কুণ্ডুচৌধুরী বাড়ির প্রতিমা বিসর্জন হত। শেষে দুই পরিবারের সদস্যদের আলিঙ্গনের মধ্যে দিয়ে শুরু হত বিজয়া পর্ব। তবে বর্তমানে সেই প্রথা আর মানা হয় না। নিজস্ব চিত্র



