


নিজস্বপ্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: শিয়রে নির্বাচন। ভোট ঘিরে উত্তেজনার পারদ চড়ছে। ঝাড়গ্রামে প্রচারের শুরু থেকেই বিজেপি নেতৃত্ব প্রার্থী বিতর্কে নাজেহাল। নয়াগ্ৰাম বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী অমিয় কিস্কুকে কর্মীরা মেনে নিতে রাজি নন। পোস্টার সাঁটিয়ে তাঁকে বয়কটের ডাক দিয়েছেন। প্রার্থী বিরোধী পোস্টার ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
ঝাড়গ্রামে বিজেপি প্রার্থীদের নিয়ে দলের অন্দরেই ক্ষোভ বাড়ছে। মনোনীত প্রার্থীদের দলের নীচুতলার অধিকাংশ নেতাকর্মী মেনে নিতে পারছেন না। শুক্রবার গোপীবল্লভপুর বিভিন্ন জায়গায় প্রার্থী বিরোধী পোস্টার দেখা যায়। বিষয়টি সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পোস্টারে উল্লেখ রয়েছে, ‘নয়াগ্ৰাম বিধানসভার প্রার্থী অমিয় কিস্কুকে মানছি না, মানব না।’ নীচে লেখা,নয়াগ্ৰাম বিধানসভার বিজেপি কর্মীবৃন্দ ও জনসাধারণ। জেলা বিজেপি নেতৃত্বের তরফে জানানো হয়েছে, পোস্টার বিতর্ক শাসকদলের কারসাজি। স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও অমিয় কিস্কুকে যে তাঁরা মানবেন না,তা পরিষ্কার জানাচ্ছেন। নয়াগ্ৰামের ১২টি অঞ্চল, গোপীবল্লভপুর-১ ব্লকের ৭ ও ২ ব্লকের ৩ অঞ্চল নিয়ে নয়াগ্ৰাম বিধানসভা গঠিত। গোপীবল্লভপুর বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় পোস্টারগুলি সাঁটানো হয়েছে। অমিয়বাবু দীর্ঘদিন শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত। ব্লক ও রাজ্যস্তরে সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলালেও মাঠে নেমে সেভাবে রাজনীতি করেননি। উল্টোদিকে দুলাল মুর্মু তিনবারের বিধায়ক। সেই সঙ্গে জেলা তৃণমূলের সভাপতি। একুশের বিধানসভা ভোটে বিজেপি প্রার্থী বকুল মুর্মুকে ২০ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত করেন। ছাব্বিশের ভোটে তৃণমূলের তিনিই একমাত্র প্রার্থী,যিনি নিজের গড় থেকে চতুর্থবার লড়ছেন। এমন এক প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে যোগ্য প্রার্থী প্রয়োজন ছিল বলেই স্থানীয় বিজেপি নেতারা মনে করছেন। স্থানীয় এক বিজেপি নেতা বলেন, নয়াগ্ৰামের মতো জায়গায় আরও শক্তিশালী প্রার্থীর প্রয়োজন ছিল। নয়াগ্ৰামের সঙ্গে গোপীবল্লভপুর-১ ও ২ ব্লকের সংস্কৃতিগত পার্থক্য রয়েছে। দলের উপর মহলের নেতারা সেকথা মাথায় রাখেননি। যার জেরেই নীচুতলার কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। অমিয়বাবু এদিন বলেন, আমাদের দলের কোনো কর্মী এই কাজ করেননি। গোষ্ঠীকোন্দল নয়,যারা ভয় পেয়েছে তাদেরই এটা পরিকল্পিত কাজ। সুস্থ মস্তিষ্কে এই কাজ হতে পারে না। দুলালবাবু বলেন, দল আমার ওপর এবারও ভরসা রেখেছে। উন্নয়নের হাত ধরে এলাকার মানুষের আর্থিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে পরিবর্তন হয়েছে। ছাব্বিশেও বিধানসভা এলাকার মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের উপরেই ভরসা রাখবেন। বিরোধী দলের বিষয় নিয়ে কোনো মন্তব্য করব না। মানুষ ওদের অনেক আগেই ত্যাগ করেছে। অরণ্য শহরের এক বিজেপি নেতা বলেন, প্রার্থী নিয়ে দলের কর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে সেই বিদ্রোহ সামনে আসতে চলেছে। যার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে।-নিজস্ব চিত্র