সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: অবশেষে পুজোর মুখে স্বস্তি কালচিনি, রায়মাটাং ও বান্দাপানি চা বাগানের শ্রমিকদের। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলেও এতদিন এই তিন বাগানের শ্রমিকদের ফাউলাইয়ের অনুদান চালু হয়নি। এবার বাগান তিনটির শ্রমিকদের ফাউলাইয়ের অনুদান দিতে সরকারিভাবে নোটিফিকেশন জারি হল। মঙ্গলবার রাজ্য সরকার নোটিফিকেশন জারি করার পরেই বুধবার থেকে সংশ্লিষ্ট তিন বাগানের শ্রমিকদের ফাউলাইয়ের ফর্ম দেওয়া শুরু করল শ্রমদপ্তর।
এদিকে, সিটু দাবি তুলেছে বাগান বন্ধ হওয়ার তারিখ থেকেই ওই তিন বাগানের শ্রমিকদের ফাউলাই দিতে হবে। সিটুর আলিপুরদুয়ার জেলা সাধারণ সম্পাদক বিকাশ মাহালি বলেন, বাগান বন্ধের বহুদিন পর ফাউলাই চালুর প্রক্রিয়া শুরু করল সরকার। তাই আমাদের দাবি, যেদিন থেকে বাগানগুলি বন্ধ হয়েছে নির্ধারিত সেই সময় থেকেই শ্রমিকদের ফাউলাই দিতে হবে। যদিও এমপি তথা বিজেপির চা শ্রমিক সংগঠন বিটিডব্লুইউয়ের চেয়ারম্যান মনোজ টিগ্গা পাল্টা বলেন, চার মাস হয়েছে আমাদের সরকার ক্ষমতায় এসেছে। তাহলে বিগত তৃণমূল সরকার এতদিন কেন ওই বাগানগুলিতে ফাউলাই চালু করেনি? এই প্রশ্ন করা উচিত বিরোধী শ্রমিক সংগঠনগুলির। আমাদের সরকার ক্ষমতায় এসেই বন্ধ তিনটি বাগানে ফাউলাই চালুর বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।
শ্রমদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মাদারিহাট ব্লকের বান্দাপানি চা বাগানটি বন্ধ হয়েছে গত বছরের ১১ মার্চ। এখানে শ্রমিক ১১৪০ জন। অন্যদিকে, কালচিনি ব্লকের কালচিনি ও রায়মাটাং বাগান দু’টি বন্ধ হয়েছে একই দিনে গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর। এর মধ্যে রায়মাটাং বাগানে শ্রমিক ১২৫৭ ও কালচিনি বাগানে শ্রমিক ২০০৩ জন। মঙ্গলবার তিনটি বাগানেই ফাউলাই অনুদানের প্রক্রিয়া শুরুর বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে।
শ্রমদপ্তরের বীরপাড়া সার্কেলের এক আধিকারিক জানান, মঙ্গলবার বিজ্ঞপ্তি জারির পর বুধবার থেকেই ৪৪০০ জন শ্রমিকের মধ্যে ফাউলাইয়ের ফর্ম দেওয়া শুরু হয়েছে। শ্রমিকদের ফাউলাইয়ের ওই দরখাস্ত রাজ্যস্তরের ফাউলাই স্ক্রিনিং কমিটিতে পাঠানো হবে। প্রসঙ্গত, বন্ধ বাগানের শ্রমিকরা প্রতি মাসে ফাউলাইয়ের ১৫০০ টাকা করে অনুদান পান।