নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রাম ব্লকের আদিবাসী অধ্যুষিত ছোট গ্ৰাম নেকড়াডোবাকে মডেল ভিলেজ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। রাস্তা নির্মাণ, শিক্ষা,কৃষির প্রসার, মৎস্য চাষ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল।জেলা প্রশাসনের সমস্ত দপ্তরের আধিকারিকরা গ্ৰামে এসেছিলেন। প্রশাসনের সঙ্গে গ্ৰাম কমিটির ঘনঘন বৈঠক হয়েছে। মডেল গ্ৰাম গড়ার কাজ একবছর পরেও শুরু করা যায়নি। গ্ৰামের আদিবাসী বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
ঝাড়গ্রাম শহর থেকে মাইলখানেক দূরে নেকড়াডোবা গ্ৰাম।নেকড়াডোবা সংসদ নেকড়াডোবা ও কুটুসগেড়ি য়া দু’টি গ্ৰাম নিয়ে গঠিত।গ্ৰামে ১০৭টি পরিবারের বাস। জনসংখ্যা সাতশোর উপরে। ভোটার সংখ্যা ৫৩৭। অন্যান্য আদিবাসী গ্রামের তুলনায় শিক্ষার হার যথেষ্ট ভালো। গ্ৰামের বাসিন্দাদের মধ্যে চিকিৎসক ইঞ্জিনিয়ার,শিক্ষক, ব্যবসায়ী,কৃষিজিবী মানুষ রয়েছেন। গ্ৰামের মধ্যে কিছুটা রাস্তা পিচ ও ঢালাইয়ের হয়েছে।পরিস্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা রয়েছে।পর্যাপ্ত সেচের জলের ব্যবস্থা না থাকায় বছরে একবার চাষ হয়। আদিবাসী বাসিন্দাদের বাড়িগুলির দেওয়াল সুন্দরভাবে চিত্রিত। গ্ৰামের চারপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন।বাসিন্দারা সুশৃঙ্খল ও শান্তভাবে জীবনযাপন করেন।ঝাড়গ্রামজেলাপরিষদেরতরফথেকেকয়েকমাসধরেআটটি ব্লকেরআদিবাসীঅধ্যুষিতবিভিন্ন গ্রামেরভিডিয়োগ্রাফিকরাহয়।গ্রামেরপরিবেশ,রাস্তাঘাট,পরিষ্কারপরিচ্ছন্নতাবিষয়দেখাহয়েছিল।গ্রামবাসীরা কতটাসচেতন তা নিয়েও পর্যালোচনা হয়।তারপরনেকড়াডোবাগ্রামকেইমডেলভিলেজেরজন্যনির্বাচনকরাহয়।হজেলারকৃষি,সেচ,বিদুৎ,পূর্ত,মৎস্য,প্রাণিসম্পদ,জলসম্পদ,আইসিডিএস,অনুগ্ৰসর শ্রেণিকল্যাণ,স্বাস্থ্য,বন,হর্টিকালচারদপ্তরসহমোটকুড়িটিদপ্তরেরআধিকারিকরানেকড়াডোবাগ্রামপরিদর্শন করেন। একবছর পেরিয়ে যাওয়ার পরেও মডেল গ্ৰাম গড়ার কাজ এখনও শুরু করা যায়নি। গ্ৰামের প্রাথমিক স্কুলটির সীমানা দেওয়াল করার জন্য শিক্ষরা প্রশাসনের দরজায় দরজায় ঘুরছেন।গ্ৰাম থেকে দহিজুড়ি রাস্তা বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে।গ্ৰামে কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্র নেই। চিকিৎসার জন্য তিন কিমি পথ অতিক্রম করতে হয়। গ্ৰামের শিশু উদ্যান ঘন ঝোপঝাড়ে ভরে গিয়েছে। ঝাড়গ্রাম পঞ্চায়েত সমিতির তরফে চাষিদের সুগন্ধি চালের বীজ দেওয়া হয়েছিল।জলের অভাবে চাষাবাদ শুরু করা যায়নি। মাছ চাষ,পশু পালন পোল্ট্রি গড়ার কাজ শুরু করা যায়নি। গ্ৰামের পুরুষ ও নারীদের নিয়ে স্বসহায়ক দল গড়ার কাজ থমকে আছে। গ্ৰামের এক বাসিন্দা গোরু চড়াতে চড়াতে বলেন, বড় বড় অফিসাররা সব গ্ৰামে এসেছিলেন।মডেল গ্ৰাম গড়ার কথা বলেছিলেন। প্রশাসনের অফিসে আমরাও দলবেঁধে গিয়েছিলাম। তারপর সব চুপচাপ হয়ে গেলে। মডেল গ্ৰামের কোনো কাজই হয়নি। অপর বাসিন্দা রবিন হেমব্রম বলেন, গ্ৰামের সেচের জলের ব্যবস্থাটুকুহলেসারা বছর অন্তত চাষবাস করা যাবে। প্রশাসন সেটুকুর ব্যবস্থা করে দিক। নেকড়াডোবা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, স্কুলের সীমানা প্রাচীরের জন্য প্রশাসনের সব দপ্তরে দপ্তরে ঘুরছি। সেটাই করা যাচ্ছেনা। ঝাড়গ্রাম পঞ্চায়েত সমিতির এক সদস্য বলেন, জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদের সকল সদস্যরা মিলে গ্ৰামে গিয়েছিলাম। জেলা পরিষদের উদ্যোগে কাজ করার কথা ছিল। বর্তমানে জেলা পরিষদের পরিস্থিতি কেমন তা সবাই দেখছে।জেলা প্রশাসনকেই উদ্যোগ নিয়ে কাজ শুরু করতে হবে।



