কালীপুজোকে ঘিরে শুরু হয়ে গেল মাটির প্রদীপ তৈরির কাজ, শহরের বিভিন্ন ভাটিতে ব্যস্ততা তুঙ্গে
  • ২২ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কালী পুজোকে ঘিরে শহরের বিভিন্ন ভাটিতে শুরু হয়ে গেল জোরকদমে মাটির প্রদীপ তৈরির কাজ। রাতদিন এক করে চলছে সেই কাজ। আলোর এই উৎসবে মানুষজন এই মাটির প্রদীপ পুজোর পাশাপাশি বাড়িতেও জ্বালিয়ে থাকেন। ফলে কালী পুজোকে ঘিরে প্রয়োজন হয় প্রচুর পরিমাণে প্রদীপ। এমনকী মায়ের এই আরাধনায় দরকার হয় ১০৮ প্রদীপ। তাই অন্য পুজোর চেয়ে কালী পুজোয় মাটির প্রদীপের চাহিনাও বেশি। কলকাতার বিাভিন্ন ভাটি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রদীপ তৈরির জন্য অধিকাংশ মাটি এসেছে এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ডহারবার, ক্যানিং এলাকা থেকে। টন টন এই মাটি দিয়ে তৈরি হচ্ছে এই লক্ষ লক্ষ মাটির মঙ্গল প্রদীপ। রাজ্য মাটি সংগঠনের অন্যতম কর্তা মোহনলাল প্রজাপতি বলেন, ‘চিৎপুর, কাশীপুর, ফুলবাগান, কাঁকুরগাছি, বাগমারি, উল্টোডাঙা, কবিরাজবাগান, বাগুইআটি, কসবা, বালিগঞ্জ প্রভৃতি এলকায় বিভিন্ন ভাটিতে তৈরি হচ্ছে সেই মাটির প্রদীপ তৈরির কাজ।  ছোট বড় মিলিয়ে বিভিন্ন সাইজের প্রদীপ তৈরির কাজ চলছে এই সমস্ত ভাটিতে। ইতিমধ্যে কয়েক লক্ষ প্রদীপ তৈরি হয়ে গিয়েছে। তা বিভিন্ন ভাটির গোডাউনে মজুত করা হচ্ছে। কয়েকদিনের মধ্যেই তা খুচরো ব্যবসায়ীরা পাইকারি ভাটি থেকে এই প্রদীপ কিনে নিয়ে যাবেন।’ উল্টোডাঙার কবিরাজ বাগানে এক ভাটিতে কথা হচ্ছিল রাজেশ প্রজাপতির সঙ্গে। তিনি বলেন,‘বড় প্রদীপের থেকে ছোট প্রদীপের চাহিদাই বেশি। তাই আমরা ছোট প্রদীপই বেশি পরিমাণে তৈরি করছি। কারণ ভূত চর্তুদশী, দেওয়ালি, কালী পুজোতে লাগে ছোট প্রদীপ। ফলে ছোট প্রদীপের চাহিদা বেশি।’ এই কাজের সঙ্গে যুক্ত আর এক প্রদীপ শিল্পী সঞ্জয় প্রজাপতির কথায়,‘জেলাতেও আছে মাটির সামগ্রী তৈরির ভাটি। কিন্তু তা সত্ত্বেও চাহিদা বেশি থাকায় কলকাতার বিভিন্ন ভাটি থেকে তৈরি প্রদীপ যায় পাশ্ববর্তী জেলাতেও।’ মাটি সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত জুগমিলা পাল বলেন,‘দেওয়ালিতে পোড়ামাটির প্রদীপের পাশাপাশি বিক্রি হয়ে থাকে নানা ডিজাইনের রঙীন প্রদীপও। তাই এখন শিল্পীদের কাজের চাপ এখন অনেকটাই বেশি। শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণের কিছু খুচরো ব্যবসায়ী ইতিমধ্যেই ভাটি থেকে নিয়ে গিয়েছেন বিভিন্ন ডিজাইনের মাটির প্রদীপ। লক্ষ্মীপুজো মিটলেই শুরু হয়ে যাবে প্রদীপের বাজার। কলকাতায় প্রদীপ বিক্রির সঙ্গে যুক্ত অচিন্ত্য পাল বলেন,‘অন্য আর পাঁচটা পুজোর তুলনায় কালীপুজো হয়ে থাকে মুড়ি মুড়কির মতো। অলিতে গলিতে সর্বত্র হয়ে থাকে কালীর আরাধনা। তাই এই সময় বাজার প্রদীপের বাজার ভালো মেলে। সব মিলিয়ে দশমীর পর থেকেই শুরু হয়ে যাবে শহরজুড়ে প্রদীপ বিক্রির জোর কাউন ডাউন।

Advertisement