


সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি; পশ্চিম-এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানিতে টান পড়ায় এবার ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোমে’র উদ্যোগ নিচ্ছে মোদি সরকার। এখন সিংহভাগ মন্ত্রকেরই ফাইল চালাচালি হয় ইমেলে। তাই ৫৩ মন্ত্রকের কোন কোন বিভাগে কত কর্মীর প্রতিদিন অফিসে না এলেও চলে, সেই তালিকা তৈরি হচ্ছে। এবার থেকে মন্ত্রকের অধিকাংশ বৈঠক কোভিড পর্বের মতো ভার্চুয়ালি করা হবে বলে ঠিক হয়েছে। কর্মচারীদের মধ্যে কার-পুলিং ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করা হবে।
সিবিআই, আইবি, ইডি, বিদেশ মন্ত্রকের মতো কতগুলি দপ্তরে অনলাইন বা ওয়ার্ক ফ্রম হোম কার্যত অসম্ভব। কারণ, তাদের ফাইল রাখা হয় ‘স্ট্যান্ড অ্যালোন’ কম্পিউটারে। নির্দিষ্ট কম্পিউটার ছাড়া সেইসব গোপন এবং গুরুত্বপূর্ণ ফাইল খোলা যায় না। ফাইলের রেকর্ডও সাধারণত কোনো পেনড্রাইভে নেওয়া হয় না। নেওয়া হয় সিডিতে। সেই কারণে ওই তালিকা থেকে এই ধরনের কয়েকটি মন্ত্রক বা বিভাগকে বাদ রাখা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ সহ এখন দেশের সিংহভাগ রাজ্যেই বিজেপির শাসন। তারা কী ব্যবস্থা নেবে, সেটা সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারকেই সিদ্ধান্ত নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ইরান-ইজরায়েল সংঘাত শুরুর পর্বেই সংসদ চত্বরে দাঁড়িয়ে গত ৯ মার্চ রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, সংকট আসছে। প্রধানমন্ত্রীর উচিত এখনই ব্যবস্থা নেওয়া। সেই সতর্কবার্তা কানে তোলেননি নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু এখন সংকট পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে প্রধানমন্ত্রী ডাক দিয়েছেন সঞ্চয়ের। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে কৃষি এবং গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং বৃহস্পতিবার মন্ত্রকের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ওয়ার্ক ফ্রম হোমের সম্ভাবনা সহ অন্যান্য নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য বিভাগীয়স্তরে দু’দিনের মধ্যে পরিকল্পনা জানাতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি আধিকারিকদের বৈঠকে জানিয়ে দিয়েছেন, আমি এবং আমার পরিবার আগামী এক বছর সোনা কিনব না। আপনারাও চেষ্টা করুন। একইসঙ্গে পরিচিত পাঁচজনকে সোনা কিনতে বারণ করুন। বিদেশি বস্তু ছেড়ে দেশীয় সামগ্রী, উৎপাদন ক্রয়ে জোর দিন। মন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী এক বছর আমি বিদেশ যাব না। কাজের ক্ষতি না করে কীভাবে ওয়ার্ক ফ্রম হোম আরও বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে বিভাগগুলি সম্ভাবনা খতিয়ে দেখুক।