নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: বরানগরের তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান দিলীপ নারায়ণ বসু। পালাবদলের পরও ওই পদে রয়েছেন তিনি। তবে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীরই কোনো কর্মসূচিতে যোগ দিতে দেখা যাচ্ছে না তাঁকে। এই আবহে বরানগরজুড়ে গুঞ্জন, দিলীপবাবু আসলে ‘ভালো তৃণমূল’ হয়ে বিজেপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছেন! সেই গুঞ্জনের তীব্রতা এখন এতটাই যে পুজোর মুখে এলাকায় বিক্ষোভ দেখিয়ে তাঁর নামে ব্যানার-পোস্টার লাগালেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। তাতে বলা হয়েছে, ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গ্যাংয়ের সদস্য দিলীপ নারায়ণ বসু (সনু) ও তৃণমূলের হার্মাদ, তোলাবাজদের বিজেপিতে মানছি না।’ এই ব্যানার দেওয়ার পর থেকে স্থানীয় রাজনীতি আরও সরগরম।
বরানগরে একাধিক বিগ বাজেটের পুজো কমিটির ‘দখল’ নিয়েছে বিজেপি। কিন্তু লোল্যান্ডের পুজোর নিয়ন্ত্রণ এখনও দিলীপবাবুর হাতেই রয়েছে। ওই পুজোর প্রধান পৃষ্ঠপোষক বিধায়ক সজল ঘোষ। সভাপতি ডাঃ নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বিগত বছরের মতোই জৌলুস বজায় রেখে থিমের চমক থাকছে এবারও। দিলীপবাবু কোন রসায়নে পুজোর কর্তৃত্ব ধরে রাখতে পারলেন, কেন তাঁর পুজো ‘দখল’ হল না—এসব প্রশ্নে বরানগরের রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ছিলই। কিন্তু পুজোর প্রাক মুহূর্তে দিলীপবাবুকে নিয়ে ক্ষোভ ও ব্যানার-পোস্টারে প্রতিবাদ আসলে বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন অনেকে।
সোমবার রাতে বরানগরের যুব নেতা অভিজিৎ সরকারের নেতৃত্বে বিজেপি কর্মীরা থানা লাগোয়া লোল্যাণ্ড যাওয়ার রাস্তায় বিক্ষোভ মিছিল করেন। এরপর দিলীপববাবুর নামে দেওয়ালে পোস্টার সাঁটিয়ে দেন তাঁরা। দিলীপবাবু সহ তৃণমূলের কাউন্সিলারদের দলে নেওয়া হবে না বলে সাফ ঘোষণা করা হয়।
অভিজিৎ সরকার বলেন, ‘দিলীপবাবু এলাকায় প্রচার করছেন, তাঁর পুজোর উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী আসবেন। অথচ, তিনি ভোটের ফলাফলের আগের দিনও তৎকালীন বিরোধী দলনেতার নামে কুৎসা করেছেন। তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গ্যাংয়ের বড়ো সদস্য ছিলেন। বিজেপি কর্মীদের উপর ভয়ঙ্কর অত্যাচার করেছেন। এমন লোকরা বিজেপিতে আসার চেষ্টা করলে আমরা বিরোধিতা করবই। সাধারণ মানুষের প্রশ্নে আমরা জর্জরিত।’ দিলীপবাবু (সনু) বলেন, ‘এলাকাকে কলুষিত করার চেষ্টা আগে কখনও দেখিনি। আমি দলমত নির্বিশেষে এলাকার সবাইকে নিয়ে ৩০ বছরের বেশি পুজো করছি। পুজোর মুখে এমন নোংরামি হতে পারে, কল্পনাও করতে পারছি না। আমি বিধায়ক ও বিজেপি নেতৃত্বকে বিষয়টি জানাব।’ বিজেপির বরানগর ৩ নম্বর মণ্ডল সভাপতি নয়না সিংহ বলেন, ‘গতকাল ফোনে পোস্টার, ব্যানার লাগানোর কথা শুনেছিলাম। পরে আর খোঁজ নিতে পারিনি। খোঁজখবর নিয়ে মন্তব্য করব।’



