


প্রীতেশ বসু, কলকাতা: মোদি জমানায় মূল্যবৃদ্ধি আকাশ ছুঁয়েছে। ফলে মধ্যবিত্তের জীবনযাপনের মান ধরে রাখতে ঋণ নেওয়াই একমাত্র সহজ পথ। কার্যত বাধ্য হয়েই সোনার গয়না বন্ধক রেখে ঋণ নিতে হচ্ছে বাড়ির মা-বোনেদেরও। গত তিনবছরে দেখা যাচ্ছে, দেশজুড়ে প্রথমবার গোল্ড লোন নিয়েছেন এমন মহিলার সংখ্যাও বেড়েছে পাল্লা দিয়ে। গোল্ড লোন নেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন (নিউ টু ক্রেডিট) বা প্রথমবার ঋণগ্রহণের তালিকায় ২০২২ সালে মহিলা ছিল মাত্র ১৬ শতাংশ। সেটা ২০২৫ সালে ২৩ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থাৎ, বেড়েছে ৪৩ শতাংশ। সম্প্রতি, মহিলাদের ঋণপ্রদান সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট পেশ করেছে নীতি আয়োগ। তাতেই ২০২২-এর সঙ্গে ২০২৫-এর তুলনাতেই মহিলাদের মধ্যে গোল্ড লোন নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধির বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে।
তবে শুধু প্রথমবার গোল্ড লোন নেওয়ার তালিকাভুক্ত মহিলার সংখ্যা বেড়েছে এমনটা নয়। নীতি আয়োগের এই রিপোর্ট অনুযায়ী, সার্বিকভাবেই মহিলা গোল্ড লোন গ্রাহকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৭ শতাংশে। নীতি আয়োগ এও পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, একেবারে ঘরোয়া এবং পারিবারিক কারণেই প্রথমবারের জন্য গোল্ড নেওয়ার পথ বেছে নিতে হয়েছে অধিকাংশ মহিলাকেই।
কোন কোন রাজ্যে গয়নার বিনিময়ে ঋণগ্রহণের প্রবণতা বেশি, তাও উঠে এসেছে সদ্য প্রকাশিত এক রিপোর্টে। ওই রাজ্যগুলি হল—উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, গুজরাত, মহারাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রদেশ। বলা বাহুল্য, উপর্যুক্ত প্রতিটিই মোদি-শাহের সাধের ‘ডবল ইঞ্জিন’ রাজ্য। তাহলে কি এর জন্য দেশের এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির অর্থনীতি দায়ী? অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকার জানান, এর থেকেই পরিষ্কার যে আর্থিক সংকটের ধাক্কা সামলাতেই পরিবারগুলির মহিলাদের ঝুঁকতে হচ্ছে গোল্ড লোনের দিকে। এটা তো অর্থনীতি ভালো হলে হওয়ার কথা নয়। লক্ষণীয় যে, কোনো একটি ঋণ মেটাতে বা ইএমআই দিতেই কিন্তু এই গোল্ড লোন নিতে হচ্ছে। আমাদের দেশের অর্থনীতি কোথায় গিয়ে ঠেকেছে, সেটা বোঝার জন্য নীতি আয়োগের এই রিপোর্টই জলজ্যান্ত প্রমাণ।
এই বিষয়ে মোদি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছেন দমদম উত্তরের তৃণমূল প্রার্থী তথা রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, এটাই হল মোদির সরকারের সবকা সাথ সবকা বিকাশের নমুনা। এটাই তো স্বাভাবিক। আজকে গ্যাসসহ সব জিনিসের দাম বাড়াচ্ছে। ফলে মহিলাদের গয়না জমা রেখেই ঋণ নিতে হচ্ছে। সেই ঋণ শোধ করে গয়না ফেরত নেওয়ার ব্যাপারটিও অনিশ্চিত। এই তো দেশ চালাচ্ছে বিজেপি! আর ভোটের সময় বাংলায় এসে বড়ো বড়ো কথা বলছে।
দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে (ব্যালান্স শেয়ারের ভিত্তিতে) দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রিটেইল ক্রেডিট পণ্য হয়ে উঠেছে গোল্ড লোন। ২০২২ সালের মার্চ মাস থেকে গোল্ড লোনের ব্যালান্স ৩.৮ গুণ বেড়েছে, এবং ভারতের রিটেইল ক্রেডিট পোর্টফোলিয়োতে এর অংশীদারিত্ব ৫.৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৫-এর ডিসেম্বরে হয়েছে ১১ শতাংশ। এছাড়া প্রতি অ্যাকাউন্টে গড় গোল্ড লোন ব্যালান্স ২০২২-এর মার্চের ১.১ লক্ষ টাকা থেকে বেড়ে ২০২৫-এর ডিসেম্বরে ১.৯ লক্ষ টাকায় পৌঁছেছে বলেও দাবি অপর রিপোর্টে।