


সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: খণ্ডঘোষের মঞ্চে তখন বক্তব্য রাখছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলছেন, ‘আপনারা বিজেপিকে বিশ্বাস করবেন না। মিথ্যার ফুলঝুরি দিচ্ছে। গ্যাসের দাম কিভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে, আপনারা দেখছেন তো। হঠাৎ করে নোটবন্দি করে দিয়েছিল। আমার মায়েরা যে টাকা জমিয়ে রেখেছিল, তা সব জলে চলে গেল।’ বক্তব্য শেষ হতে না হতেই হাততালির ঝড়। মঞ্চের সামনে বসে থাকা শিপ্রা কর্মকার, সুনীতা দাসরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করতে লাগলেন, ‘দিদি ঠিকই বলেছেন। মোদি সব কিছুর দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। গ্যাস সিলিন্ডার প্রতি মাসে আর কেনা যাচ্ছে না। দাম বেড়েই চলছে।’
মঞ্চে বলেই চলেছেন তৃণমূল নেত্রী। এবার প্রসঙ্গ বিজেপির মিথ্যা প্রতিশ্রুতি। মমতা বলছেন. ‘কেউ আপনার বাড়িতে এসে অ্যাকাউন্ট নম্বর চাইলে দেবেন না। আমার নাম করে বললেও বিশ্বাস করবেন না। ওরা আপনাদের অ্যাকাউন্টে কালো টাকা পাঠাবে। ভোটের আগে বিহারের মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ওরা টাকা দিয়েছিল। এখন ফেরৎ চাইছে।’ মমতার মুখে একথা শুনে খণ্ডঘোষের অনিমা দাস, সুপ্রিয়া ভট্টাচার্যরা বলছেন, ‘মোদিকে বিশ্বাস নেই। ভোটের আগে তিন হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলছেন। ভোট মিটে যাওয়ার পর আর টাকা দেবেন না। বছরে দু’কোটি চাকরিও দেননি। বিদেশ থেকে কালো টাকা উদ্ধার করে এনে অ্যাকাউন্টেও ঢোকাননি। যাঁরা জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে হেঁশেল-জীবনকে বীতশ্রদ্ধ করে তুলছে, তাঁরা কিনা টাকা দেবে?’
অমিমা-সুপ্রিয়ারাই এখন বিজেপির গলার কাঁটা। বিজেপির কোনও প্রতিশ্রুতি নিয়ে দুয়ারে দু’চার কথা শুনিয়ে দিচ্ছেন। অগত্যা মহিলাদের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা আনতে ভিনরাজ্যের মহিলা নেত্রীদের নিয়ে আসা হচ্ছে। স্বয়ং কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণকে কালনায় এনে মহিলাদের প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। এমনকী, আনুষ্ঠানিকভাবে কার্ড বিলি করে বিতর্কেও জড়িয়েছেন তিনি। তারপরও বাংলার নারীশক্তির মনজয় করতে পারছে না বিজেপি। পূর্বস্থলী দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী স্বপন দেবনাথ বলেন, ‘বিজেপির ভাঁওতায় কেউ আর বিশ্বাস করে না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এরাজ্যের মহিলাদের কথা ভেবেছেন। তাঁদের জন্য লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সহ বিভিন্ন প্রকল্প এনেছেন। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার বাংলার মহিলাদের জন্য কিছু করেনি। ভোটের সময় বিজেপি ভাবছে ওরা যা বলবে সেটাই বাংলার মায়েরা বিশ্বাস করবে। এই ধারণা ওদের ভুল।’ গলসি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী রাজু পাত্র বলেন, ‘এ রাজ্যে মহিলাদের উপর অত্যাচার হয়েছে। আরজিকরের স্মৃতি এখনও সবার মনে টাটকা। বাংলার মায়েরা এবার সুরক্ষার স্বার্থে বিজেপিকে।’