নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সকল মহিলা নন। পরিবারের আয় বার্ষিক আড়াই লক্ষ টাকার কম হলে তবেই পাওয়া যাবে মহিলা সম্মান প্রকল্পের ২৫০০ হাজার টাকা। এমনই শর্ত বেঁধে মহিলাদের ভাতা প্রকল্প চালুর সিদ্ধান্ত নিল দিল্লির বিজেপি সরকার। যদিও বিরোধীরা বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি খেলাপের অভিযোগ তুলেছে। ভোটের প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করেছিলেন, বিজেপি ভোটে জিতলে আগামী ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসের আগে থেকেই দিল্লির মহিলারা মাসে আড়াই হাজার টাকা করে অনুদান পেতে শুরু করবেন। কিন্তু কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল কোনওটিই হল না। ৮ মার্চ পর্যন্ত কোনও টাকাই পাওয়া যায়নি। শনিবার আন্তর্জাতিক নারী দিবসে এই প্রকল্প চালুর সিদ্ধান্ত দিল্লি সরকারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে গ্রহণ করা হয়েছে ঠিকই। কিন্তু কবে থেকে টাকা দেওয়া হবে, সেই দিনক্ষণ স্থির হয়নি। তাছাড়া সব মহিলাও এই ভাতা পাবেন না।
এদিন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা ঘোষণা করেছেন, আমরা চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করছি। এই কমিটি প্রকল্পের রূপরেখা স্থির করবে। তবে আগাম ৫১৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে প্রকল্পে থাকছে শর্ত। বলা হয়েছে, ২১ থেকে ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত দারিদ্রসীমার নীচে বসবাসকারী পরিবারের (আয় বছরে আড়াই লক্ষ টাকার কম) মহিলারা এই টাকা পাবেন। একই পরিবারের একাধিক মহিলা সদস্য অনুদান পাবেন না।
প্রত্যাশিতভাবেই বিরোধীরা বিজেপিকে আক্রমণ করে মিথ্যাচারী আখ্যা দিয়েছে। আম আদমী পার্টি (আপ) নেত্রী এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আতিশি বলেছেন, স্বয়ং মোদিজী ৮ মার্চের আগেই দিল্লির সব মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মাসে আড়াই হাজার টাকা আসার কথা বলেছিলেন। আর এখন টাকার বদলে মহিলারা পেলেন কমিটি? তাও আবার সকলে পাবেন না! এত আশা করে দিল্লির মহিলাদের বড় অংশ বিজেপিকে ভোট দিয়েছিল। কারণ তাঁরা মোদির গ্যারেন্টিতে বিশ্বাস করেছিলেন। একমাস আগে সভা সমাবেশে মোদিজী নিজেই বলেছিলেন, তাঁর গ্যারেন্টি সর্বদাই বিশ্বাসযোগ্য। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, ওই গ্যারেন্টি আসলে জুমলা। মোদিজি ভোট পাওয়ার জন্য আগে বলেন একরকম। আর ভোটে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর সেই প্রতিশ্রুতি পালটে যায়। আপ মুখপাত্র সঞ্জীব ঝা বলেছেন, এবার থেকে অন্য রাজ্যবাসীরা সাবধান। মোদিজির প্রতিশ্রুতি আর বিশ্বাস করবেন না। আগামীদিনে একঝাঁক রাজ্যে ভোট। তার মধ্যে বাংলা অন্যতম। বাংলার রাজনীতিতে অন্যতম প্রধান আলোচ্য প্রকল্প হল লক্ষ্মীর ভান্ডার। যা সব মহিলাই পেয়ে থাকে। সুতরাং দিল্লির মহিলা প্রকল্পের এই শর্তাবলীর প্রেক্ষিতে বাংলার ভোটে লক্ষ্মীর ভান্ডার ফের ইস্যু হয়ে উঠবে বলেই মনে করা হচ্ছে।