


নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: শিশু চুরির চেষ্টার অভিযোগ। এক মহিলাকে পাকড়াও করে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার আলোড়ন ছড়ায় জলপাইগুড়ি স্টেশন লাগোয়া তিন নম্বর ঘুমটি এলাকায়। এলাকার মানুষজনের অভিযোগ, এদিন সকাল থেকে ওই মহিলা সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করছিল। দু’দিন আগেও তাকে এলাকায় দেখা গিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কিছু একটা খাইয়ে তিন নম্বর ঘুমটি এলাকা থেকে এদিন একটি শিশুকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে ওই মহিলা। তখনই তাকে পাকড়াও করা হয়। খবর দেওয়া হয় থানায়। পুলিশ এসে মহিলাকে নিয়ে যায়। কোতোয়ালি থানার আইসি সঞ্জয় দত্ত বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
যদিও ওই মহিলার বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি তার আত্মীয়দের। তাঁদের দাবি, ওই মহিলার বাড়ি ক্রান্তি ব্লকের চাপাডাঙা পঞ্চায়েতের পূর্ব সাঙ্গোপাড়া এলাকায়। সে ডাক্তার দেখাতে জলপাইগুড়িতে এসেছিল। যদিও ডাক্তার দেখাতে এসে ওই মহিলা স্টেশন চত্বরে কেন ঘোরাঘুরি করছিল, সে ব্যাপারে সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি তার আত্মীয়রা।
এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে ওই মহিলা তিন নম্বর ঘুমটি এলাকায় ইতস্তত ঘোরাঘুরি করে। তারপর সুযোগ বুঝে একটি শিশুকে ডেকে ব্যাগ থেকে বের করে কিছু একটা খেতে দেওয়ার চেষ্টা করে। এর আগেও জলপাইগুড়ি স্টেশন চত্বর থেকে শিশু চুরির চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। ফলে এদিনের ঘটনা চাউর হতেই এলাকায় আলোড়ন ছড়ায়। উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন বাসিন্দারা। দুপুরে কোতোয়ালি থানা চত্বরে দাঁড়িয়ে মহিলার আত্মীয় ফতেনুর আলমের অবশ্য দাবি, মহিলার স্বামী কেরলে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করে। সে জলপাইগুড়িতে ডাক্তার দেখাতে এসেছিল। তার দুই ছেলে। তারা পড়াশোনা করে। ডাক্তার দেরিতে বসবে জানতে পেরে ওই মহিলা স্টেশন এলাকায় ঘোরাঘুরি করছিল। তখনই স্থানীয় বাসিন্দারা ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে আটক করেন।