নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: আর পাঁচজন ক্রেতার মতোই গয়না কিনতে ঢুকেছিলেন। হাতে স্মার্ট ওয়াচ। অভিজাত পোশাক দেখে বোঝার উপায় নেই, তাঁর মনে কী চলছে। দোকানদারেরও কোনো সন্দেহ হয়নি। আর সেই সুযোগে একটি গয়নার দোকানে প্রতারণার অভিযোগ উঠল এক মহিলার বিরুদ্ধে। নরেন্দ্রপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁকে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম মধুরিমা দাস।
ভুয়ো অনলাইন পেমেন্ট মেসেজ দেখিয়ে গয়না নিয়ে চম্পট হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। এমনই অভিযোগ অভিযোগকারী দোকানদারের। পুলিশ সূত্রে খবর, আগস্ট মাসে নরেন্দ্রপুর থানার অন্তর্গত কালীবাজারের একটি গয়নার দোকানে গিয়েছিলেন মধুরিমা। কাউকে উপহার দেবেন বলে গয়না দেখাতে বলেন দোকানদারকে। কয়েকটি কানের দুল এবং আংটি দেখেন। একটি পছন্দও হয় তাঁর। অনলাইন পেমেন্ট করবেন বলে দোকানদারকে জানান মধুরিমা। এরপর কৌশলে ফোনে একটি মেসেজ বের করে দোকানদারকে দেখিয়ে দাবি করেন যে, ‘পেমেন্ট’ হয়ে গিয়েছে!
তখনকার মতো মহিলা চলে যান। দোকান মালিক তারক কর্মকারের অভিযোগ, পরে অ্যাকাউন্টের লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য খতিয়ে দেখে বুঝতে পারি, কোনো টাকাই ঢোকেনি। প্রতারিত হয়েছি! অতএব নরেন্দ্রপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করি। পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় দোকানের সিসিটিভি ফুটেজও।
এই ঘটনার তদন্তের মধ্যেই শুক্রবার সোনারপুরের চৌহাটি এলাকায় একটি গয়নার দোকানে ফের অলংকার কিনতে যান মধুরিমা। ‘পেমেন্ট’ হয়ে গিয়েছে দাবি করে সেখানেও একইভাবে মেসেজ দেখান তিনি। তখন সন্দেহ হয় সেই দোকানদারের। কৌশলে তাঁকে দোকানেই আটকে রাখা হয়। খবর দেওয়া হয় থানায়। পুলিশ গিয়ে ওই মহিলাকে গ্রেপ্তার করে।
তাঁর সম্পর্কে খোঁজ নিতে গিয়ে পুলিশ জেনেছে, তিনি বিবাহবিচ্ছিন্না। থাকেন লেক থানা এলাকায়। দোকান থেকে হাতানো গয়নাগুলি বিক্রি করেন। আরও কোনো জায়গায় এমন প্রতারণা করেছেন কি না, খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এদিকে, মধুরিমা পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি সাংবাদিকতা নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। কিন্তু বর্তমানে একটি বিউটি পার্লারের দেখাশোনা করেন। তাঁর এই দাবির সত্যতা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।