


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: রাস্তা নাকি চাঁদের দক্ষিণ মেরু বোঝা মুশকিল! শীত হোক বা বর্ষা—সারা বছরই বড়ো বড়ো গর্ত! ১৫ বছর ধরে বেহাল রাস্তায় হোঁচট খেয়েছেন সল্টলেকের বাসিন্দারা। না পুরসভা, না বিধায়ক। কেউই সংস্কারে উদ্যোগী হননি বলে অভিযোগ। কিন্তু ভোট বড়ো বালাই! তাই সংস্কারের জন্য ভোটের আগে ১৩ নম্বর ট্যাঙ্কের সামনে রাস্তা খোঁড়া হয়েছিল। স্টোন চিপসও নেমে গিয়েছিল। ভোট শেষ। এখনও সেই রাস্তার কাজ শুরু হয়নি। উলটে একটি লেন বন্ধ। সেই বন্ধ লেনে এখন গাড়ি পার্কিংয়ের ছড়াছড়ি। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। এখন বাসিন্দাদের প্রশ্ন, খানাখন্দ ভরা সল্টলেকের রাস্তার হাল কি এবার ফিরবে? নতুন বিধায়ক ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায় অবশ্য রাস্তার উন্নতির আশ্বাস দিয়েছেন।
এবারের বিধানসভা ভোটে সল্টলেক তথা বিধাননগরেও রাজ্যের বাকি অংশের মতো বিজেপির জয়জয়কার হয়েছে।
চারবারের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক সুজিত বসুকে হারিয়ে ৩৭ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছেন বিজেপির ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। বিধাননগর পুরসভা তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে থাকলেও এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, রাস্তা সংস্কারের বিষয়ে উদ্যোগী হতে হবে বিধায়ককেই। তা না হলে সল্টলেকের মানুষকে হোঁচট খেয়েই চলতে হবে। শহরের মূল রাস্তা (ব্রডওয়ে) মোটের উপর ঠিকঠাক থাকলেও সংযোগকারী রাস্তা এবং বিভিন্ন ব্লকের অভ্যন্তরের রাস্তার অবস্থা খুবই করুণ। দুর্গাপুজোর আগে কিছু রাস্তা সংস্কার হয়েছিল। কিন্তু অল্পদিনের মধ্যেই সেই রাস্তাতেও গর্ত তৈরি হয়েছে। এখনও বিধাননগর উত্তর থানার সামনে, বিদ্যুৎভবনের সামনের রাস্তায়, পূর্তভবনের সামনের রাস্তায়, সিজিও কমপ্লেক্সের সামনে, ১৩ নম্বর ট্যাঙ্কের পাশে, প্রস্তাবিত নতুন সিপি অফিসের সামনে সহ একাধিক জায়গায় রাস্তার উপর বড়ো বড়ো গর্ত। নতুন বিধায়ক তথা নামী চিকিৎসক শারদ্বতবাবু সল্টলেকেরই বাসিন্দা। রাস্তার হাল যে খারাপ, তা তিনি নিজেও উপলব্ধি করেছেন। তিনি বলেন, ‘রাস্তার সংস্তার সহ উন্নয়নমূলক কাজের জন্য আমি ইতিমধ্যে পুরসভার প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেছি। তবে, এখনও পর্যন্ত কাউকে পাইনি। সল্টলেকের রাস্তা সংস্কারের ব্যাপারে আমরা অবশ্যই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করব।’ নিজস্ব চিত্র