


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আজ সোমবার স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পগুলির সুদের হার ঘোষণা করবে কেন্দ্রীয় সরকার। এবার কি কমতে চলেছে সুদের হার? তিনমাস অন্তর ডাকঘর ভিত্তিক সঞ্চয় প্রকল্পগুলির সুদের হার ঘোষণা করে অর্থমন্ত্রক। সেই হিসেবে আগামী কাল ১ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নতুন হার প্রযোজ্য হওয়ার কথা। বিগত বেশ কয়েকটি ত্রৈমাসিকে এই সেভিংস স্কিমগুলিতে সুদ কমায়নি কেন্দ্র। যেভাবে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া তিন ধাপে মোট ১ শতাংশ রেপো রেট কমিয়েছে, তার প্রভাব এবার স্বল্প সঞ্চয়ের সুদে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সরকারি ঋণপত্রের সুদের হারের উপর নির্ভর করে স্বল্প সঞ্চয়ের সুদের হার। তার জন্য নির্দিষ্ট ফর্মুলা আছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সম্প্রতি দাবি করে, যে ফর্মুলা ধরে স্বল্প সঞ্চয়ের সুদের হিসেব হয়, তাতে দেখা যাচ্ছে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রকল্পভেদে সুদের হার ০.১৬ শতাংশ থেকে ০.৬৬ শতাংশ পর্যন্ত বেশি। এদিকে রিজার্ভ ব্যাঙ্কও তিন ধাপে মোট ১ শতাংশ রেপো রেট কমিয়ে গিয়েছে। প্রসঙ্গত, আরবিআই রেপো কমালে, ব্যাঙ্কগুলিও সাধারণত ঋণ ও আমানতের উপর সুদের হার কমিয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞদের কাথায়, রেপো রেট কমে যাওয়ায় ব্যাঙ্কগুলির ডিপোজিট বা আমানতের উপর সুদের হার কমানোর পরিস্থিতি বা সুযোগ তৈরি হয়েছে। একাধিক ব্যাঙ্ক ইতিমধ্যেই তা কমিয়ে দিয়েছে। এক্ষেত্রে স্বল্প সঞ্চয় স্কিমগুলিতে যদি বাড়তি সুদের হার জারি থাকে, তাহলে ব্যাঙ্কগুলিতে চাপ বাড়বে। কারণ, তা ডিপোজিট গ্রহণের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাদের নগদ জোগানে টান পড়তে পারে।
বর্তমানে সিনিয়র সিটিজেনস সেভিংস স্কিম
এবং সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনায় বার্ষিক ৮.২ শতাংশ। ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেটে ৭.৭ শতাংশ।
৭.৪ শতাংশ মান্থলি ইনকাম স্কিম বা এমআইএসে। পাঁচবছরের মেয়াদি আমানতে ৭.৫ শতাংশ।
৭.১ শতাংশ পিপিএফে। পাঁচবছরের রেকারিং ডিপোজিটে তা ৬.৭ শতাংশ। ৭.৫ শতাংশ পাঁচবছরের মেয়াদি আমানতে। তিনবছরের মেয়াদি আমানতে ৭.১ শতাংশ। দু’বছরের মেয়াদি আমানতে ৭ শতাংশ। আর একবছরের ক্ষেত্রে ৬.৯ শতাংশ হারে সুদ পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
এগুলির মধ্যে অনেক স্কিম ডাকঘরের পাশাপাশি ব্যাঙ্কেও চালু আছে। ওইসঙ্গে সেভিংস অ্যাকাউন্টে ৪ শতাংশ হারে সুদ দেয় ডাকঘর। এই স্কিম বহাল থাকলে ব্যাঙ্কগুলির নিজস্ব ফিক্সড ডিপোজিট বা সেভিংস অ্যাকাউন্ট জনপ্রিয়তা হারাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তাতেই প্রশ্ন উঠছে, এবার কি স্বল্প সঞ্চয়ে সুদের হার কমবে? একাংশের বক্তব্য, একবছর যাবৎ সুদের হার বেশি থাকা সত্ত্বেও সঞ্চয় প্রকল্পগুলিতে জমার অঙ্ক তার আগের বছরের তুলনায় কমেছে। সেক্ষেত্রে সরকার জমা বাড়াতে চাইলে সুদে কোপ নাও পড়তে পারে।