সুন্দরবনের গ্রামে পুজো দেখা যাবে? হোটেল মালিকদের কাছে ঘনঘন ফোন পর্যটকদের
  • ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সুন্দরবনের গ্রামে দুর্গাপুজো কেমন হয়? ওই সময় গেলে কয়েকটি পুজো দেখানো যাবে? সুন্দরবনের হোটেল মালিকদের ফোন করে এই প্রশ্নই রাখছেন বহু পর্যটক। পুজোর দিনগুলিতে অনেকে কলকাতা বা অন্যান্য জনবহুল এলাকার ভিড় থেকে দূরে চলে যেতে চান। একঘেঁয়ে দৈনন্দিন জীবনের গণ্ডি ছাড়িয়ে প্রকৃতির কোলে নির্ভেজাল ছুটি কাটাতে চাওয়া বাঙালির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। আর সেই ছুটির আমেজে যদি গ্রামবাংলার অনাড়ম্বর কিন্তু আন্তরিক কোনো মাতৃ আরাধনার সাক্ষী থাকা যায়, তাহলে তো সোনায় সোহাগা! সেই জায়গা থেকেই গ্রামের পুজো চাক্ষুষ করার চাহিদা বাড়ছে ক্রমশ। সুন্দরবনের হোটেল মালিকরা তাই সুন্দরবনের গ্রামে পুজো সংক্রান্ত ফোন পেয়েই চলেছেন। দিনের বেলা বাঘ-কুমির দর্শন, বিকাল-সন্ধ্যায় গ্রাম্য পরিবেশে দুর্গাপুজো দেখার আগ্রহ প্রকাশ করছেন ভ্রমণার্থীরা। হোটেল মালিকরা কাউকে নিরাশ করছেন না। পর্যটকদের চাহিদা মেটাতে সবরকম ব্যবস্থা করা হবে বলে আশ্বস্ত করছেন তাঁরা। ইতিমধ্যে হোটেল বুকিংয়ের হার ৫০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। এখনও হাতে আছে কিছুদিন। তাই ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এই ক’দিনে আরও কিছু বুকিং হবে।

Advertisement

নদীবক্ষে ভেসে ভেসে রয়েল বেঙ্গল টাইগার দেখার আশায় সুন্দরবনে সারা বছর কমবেশি ভিড় লেগে থাকে পর্যটকদের। কিন্তু জঙ্গল দেখার পাশাপাশি বাদাবন ঘেরা গ্রামগুলিতে মানুষ কীভাবে পুজোয় মেতে ওঠে, তা জানার আগ্রহ থাকে অনেকের। সেই টানেই এবার বেড়ানোর পাশাপাশি সুন্দরবনের পুজো দেখার টানে আসছেন অনেকে। পাখিরালয় হোটেল ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক জয়দেব খাটুয়া বলেন, ‘এবার দেখছি অনেকেই ফোন করে ঘর বুক করার পাশাপাশি সুন্দরবনের পুজো ঘুরিয়ে দেখানোর ব্যবস্থা করতে বলছেন। আমরা কাউকে নিরাশ করছি না। সবরকম ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হচ্ছে।’ মূলত পাখিরালয়ে যেখানে পর্যটকরা থাকেন, তার আশপাশে যেসব পুজো হয়, সেসব গ্রামে পর্যটকদের ঘোরানোর পরিকল্পনা করছে বিভিন্ন হোটেল কর্তৃপক্ষ। এদিকে, পুজোর দিনগুলিতে এবার বোট বুকিংয়ের পরিস্থিতিও তুলনামূলক ভালো বলে দাবি মালিকদের। তাদের কাছেও গ্রাম ঘুরিয়ে দেখানোর আবদার করছেন অনেক পর্যটক। সুন্দরবন ট্যুরিস্ট বোট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম রসুল সর্দার বলেন, ‘দিনে ১২০টি করে বোট জঙ্গলে যাওয়ার পারমিশন রয়েছে। বুকিং যা হচ্ছে, তাতে খুব শীঘ্রই সব বুকিং শেষ হয়ে যাবে। বাড়তি পাওনা হিসাবে পর্যটকদের গ্রামের পুজো ঘুরিয়ে দেখানো হবে এবার।’