নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার কোনো পরিকল্পনা করছে কেন্দ্রীয় সরকার? আবার এই জল্পনা মাথাচাড়া দিয়েছে। বাদল অধিবেশন সমাপ্ত হওয়ার পর দু’মাসেরও বেশি কেটে গিয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদের বাদল অধিবেশনকে সমাপ্ত ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি জারি করেননি। যা সংসদীয় প্রটোকলের অঙ্গ। অর্থাৎ সংসদের একটি অধিবেশন কবে থেকে শুরু হবে এবং কবে সমাপ্ত হবে, সেটার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করার অধিকার রাষ্ট্রপতির। যতক্ষণ তিনি সমাপ্তি বিজ্ঞপ্তি জারি না করছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত সংসদের কোনও একটি অধিবেশন কাগজে কলমে সমাপ্ত হয় না। যে কোনও সময় সরকার আবার বিশেষ অধিবেশন ডাকতেই পারে এসব ক্ষেত্রে। আর এক মাস পরই শীতকালীন অধিবেশনের সময় চলে আসছে। অথচ এখনও রাষ্ট্রপতি কেন সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করলেন না সেটা এখনও রহস্যময়। সেপ্টেম্বর থেকেই জল্পনা চলছে যে, সরকারের কি তাহলে অন্য কোনও পরিকল্পনা আছে? রাজনৈতিক মহলের গুঞ্জন, লাগাতার প্রতিদিন নির্বাচন কমিশন বিরোধী আন্দোলন চলছে। এই প্রবণতাকে
ধাক্কা দিতে ও এই ইস্যু থেকে দৃষ্টি ঘোরাতেই কি সরকার আচমকা বিশেষ অধিবেশন ডাকতে পারে? যেখানে ডিলিমিটেশন বিল এবং মহিলা সংরক্ষণ সংশোধনী বিলের মতো সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করানোর চেষ্টা হবে। যদিও সর্বাগ্রে প্রশ্ন হল, সরকারের কাছে দুই তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতা আছে কি? নাকি সরকার বিরোধীদের এই আন্দোলনের মধ্যেই গোপনে বিভিন্ন দলকে কাছে টানার চেষ্টা করছে? ইতিমধ্যেই তৃণমূল ভেঙে এনসিপিআই সরকারের পক্ষেই আছে। যতক্ষণ না তাদের দলের ভাগ্য নির্ধারিত হয়, ততক্ষণ ২০ জন এমপির ভোটাধিকার থাকবে। অবশ্য যদি তাঁদের তৃণমূল পরিচয় থেকে যায়, তাহলে দলের হুইপ মানতে হবে। নচেৎ বিপদ। কিন্তু অন্তত ৩৬০ জনের সমর্থন চাই। সরককারপক্ষ কি সেই চেষ্টাই করছে আবার? এই প্রশ্ন উঠছে।



