নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: গতবারের মতো কেন সাংবাদিক সম্মেলন করছেন না জ্ঞানেশ কুমার? গত বছরের ১৭ আগস্টের মতো রবিবার ছুটির দিন সত্ত্বেও ন্যাশনাল মিডিয়া সেন্টারে নজিরবিহীন সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে দুই কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশিকে পাশে নিয়ে রাহুল গান্ধীকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। বিহার নির্বাচনে ভোট চুরির অভিযোগে সরব হয়ে পথে নেমেছেন রাহুল। ২০২৫ সালের ২৫ জুলাই। তারই পালটা জ্ঞানেশ কুমার বলেছিলেন, হয় সাতদিনের মধ্যে রাহুল গান্ধী ভোট চুরির প্রকৃত প্রমাণ দিন। নয়ত ক্ষমা চান। এবারও কেন একইভাবে প্রত্যাঘাত করছেন না জ্ঞানেশ কুমার? দিল্লিতে কমিশনের আটতলা সদর দপ্তর ‘নির্বাচন সদনে’র অলিন্দে ঘুরছে চাপা এই গুঞ্জন। আধিকারিক থেকে আর্দালি, সকলেই মনেই সওয়াল, কেন চুপ তাঁদের ‘স্যার?’
কমিশনের বিশ্বস্ত সূত্রে খবর, রাহুলের লাগাতার ভোট চুরির অভিযোগের জবাব দিতে বিশেষ সাংবাদিক সম্মেলন করা কি ঠিক হবে? চলছে টানাপোড়েন। অসমর্থিত সূত্রে এমনও খবর, দুই নির্বাচন কমিশনার নাকি সাংবাদিক সম্মেলনের পক্ষে। কিন্তু জ্ঞানেশ কুমার রাজি নন। ভোট চুরির অভিযোগ ইস্যুতে দিল্লি তথা দেশ উত্তাল। এমত পরিস্থিতিতে তিনি এখন প্রকাশ্যে আসতে চাইছেন না। তাই পরের পর বাতিল করছেন বিভিন্ন রাজ্যে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ভোট সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলার কর্মসূচিও।
দিল্লিতে ডেকে নেওয়া হয়েছে কমিশনের আইটি বিভাগের ডিজি সীমা খান্নাকে। তিনি দেরাদুন গিয়েছেন বলে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সামনে ফাঁস করেছিলেন রাহুল। আর তারপরই তাঁকে দিল্লিতে ডেকে নেন জ্ঞানেশ । অন্য সময়ের মতো স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করলেও জ্ঞানেশ কুমারের অফিসের পরিবেশ ক্রমশ থমথমে। যদিও বিরোধীদের বিক্ষোভ প্রতিবাদের মধ্যেও প্রতিদিনই অন্য রাস্তায় অশোক রোডের অফিসে আসছেন জ্ঞানেশ। নিউ মোতি বাগের বাড়ি থেকে।
চলছে রুটিন মিটিং। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকও হচ্ছে। নির্বাচন সদনে জ্ঞানেশের ঘরে লাগানো পাঁচটি টিভি চলছে সমানে। হিন্দি-ইংরেজি খবরের চ্যানেল। কোথায় কী দেখাচ্ছে। পরিস্থিতি যে আগের মতো নেই, তা স্পষ্ট। কমিশনের কর্মীদের স্মার্ট ফোনের ওপরও নজরদারি চলছে বলে অভিযোগ। কাজের সময় কর্মীদের স্মার্ট ফোন ব্যবহার বারণ করা হয়েছে। কেউ কমিশনের কোনো নথি যাতে কাউকে ফরোয়ার্ড করতে না পারে। নির্বাচন সদনের সামনে দিল্লি পুলিশের লোহার ব্যারিকেড, আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ানদের দিয়ে বাড়ানো হয়েছে পাহারা। ঠিক উলটোদিকেই দিল্লি পুলিশের হেড কোয়ার্টার। সেখান থেকে সিসি ক্যামেরায় চলছে নজরদারি। যদিও দিনের শেষে নির্বাচন কমিশনের অলিন্দে চলছে গুঞ্জন, কেন সাংবাদিক সম্মেলন করে রাহুলের অভিযোগ খণ্ডণ করছেন না জ্ঞানেশ কুমার?



