


নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া ও সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: প্রশাসক হিসেবে রঘুনাথপুর পুরসভার দায়িত্ব নিলেন মহকুমা শাসক বিবেক পঙ্কজ। রাজ্য পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের নির্দেশে মঙ্গলবার সকালেই দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তিনি। এদিন দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে পুষ্পস্তবক দিয়ে স্বাগত জানান বিদায়ী চেয়ারম্যান তরণী বাউরি। তবে, তলবি সভা ডেকে অনাস্থা ভোট না করিয়ে কেন পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়া হল, সেই প্রশ্নে মঙ্গলবার দিনভর সরগরম রইল রঘুনাথপুর। নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে দেওয়ায় পুরসভার বিরোধী কাউন্সিলাররা এনিয়ে আদালতে যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এদিন মহকুমা শাসককে দায়িত্বভার বুঝিয়ে দিয়ে বিদায়ী চেয়ারম্যান বলেন, বোর্ড গঠনের পর থেকেই কিছু কাউন্সিলার চুরি করার ও অবৈধ উপায়ে টাকা আয় করার কথা ভাবছিলেন। তাঁরা পুর এলাকার নয়, নিজেদের উন্নয়ন করে গিয়েছেন। দলের কিছু কাউন্সিলারের আচরণ জেলা ও রাজ্যকে জানানো হয়েছে। তারপর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুরদপ্তরের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি। আমি ওই সব কাউন্সিলারের হাত থেকে মুক্তি পেলাম।
দায়িত্ব নেওয়ার পর মহকুমা শাসক বলেন, পুরসভার বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এই সংক্রান্ত চিঠি পাওয়ার পরই আমি দায়িত্ব গ্রহণ করলাম। আগামী ছ’মাস পর্যন্ত আমি এই দায়িত্বে থাকব। তার আগে যদি নির্বাচন হলে নতুন চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেব।
রঘুনাথপুর পুরসভার মোট ১৩জন কাউন্সিলারের মধ্যে শাসক দলের ছ’জন এবং কংগ্ৰেসের একজন কাউন্সিলার গত ২৪ এপ্রিল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ঘোষণা করেন। পুর আইন অনুযায়ী, অনাস্থা প্রস্তাব আনা হলে ১৫ দিনের মধ্যে চেয়ারম্যানকে তলবি সভা ডাকতে হয়। তাঁর স্বপক্ষে কতজন কাউন্সিলার আছেন, তা প্রমাণ করতে হয়। কিন্তু সেই সভা ডাকেননি তিনি। সভা ডাকেননি ভাইস চেয়ারম্যানও। চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান কেউই সভা না ডাকায় নিয়ম অনুযায়ী অনাস্থা প্রস্তাবে সই করা তিনজন প্রতিনিধি তলবি সভা ডাকার সিদ্ধান্ত নেন। সেই তলবি সভা হওয়ার কথা ছিল আজ, বুধবার। কিন্তু তার আগেই পুরসভার বোর্ড কেন ভেঙে দেওয়া হল, সেই নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন বিরোধীরা।
কংগ্রেসের বিদায়ী কাউন্সিলার দেবযানী প্রামাণিক বলেন, যাদের বিরুদ্ধে পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতির অভিযোগ, তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হল না। উল্টে বোর্ড ভেঙে দেওয়া হল। এটা সংবিধান বিরোধী বলে মনে করছি। প্রশাসন দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করুক। তাদের শাস্তি দিক। সেসব না করে নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে দেওয়া গণতন্ত্রের উপর বড়সড় আঘাত। বোর্ড ভেঙে দেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে আমাদের প্রশ্ন রয়েছে। আমরা আইনের দ্বারস্থ হব।
বিজেপি কাউন্সিলার দীনেশ শুক্লা বলেন, শাসকদলের নিজেদের দ্বন্দ্বে রঘুনাথপুরের মানুষ পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হতে চলেছেন। অথচ এনিয়ে কোনও তদন্তও হল না। আমরা আদালতে যাব।
অনাস্থা আনা কাউন্সিলারদের অন্যতম প্রণব দেওঘরিয়া বলেন, চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান তলবি সভা না ডাকায় আমরা তিন কাউন্সিলার মিলে সভা ডেকেছিলাম। কিন্তু তার আগেই দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যানকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে আমরা খুবই আনন্দিত। সেইসঙ্গে তাঁর সংযোজন, বিভিন্ন কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছেন চেয়ারম্যান। একজন অফিসারের মদতে পুরসভায় টেন্ডার, বিল্ডিং প্ল্যান থেকে শুরু করে বিভিন্ন দুর্নীতি করেছেন তিনি। তদন্ত হলেও সব প্রমাণ হয়ে যাবে।