থমে ডিমথেরাপি। তাতেও ভয় না পেলে সরাসরি গায়ে হাত। বেধড়ক মার। গালিগালাজ-হুমকি না হয় বাদ দেওয়া গেল। গত পাঁচমাস ধরে বাংলায় বিরোধী দলের জন্য ‘ওষুধ’ এটাই। মঙ্গলবার তো প্রাক্তন শাসকদলের প্রাক্তন এক বিধায়ককে একেবারে থানার সামনে মেরে মুখ ফাটিয়ে দেওয়া হল। ঘটনাচক্রে সেই প্রাক্তন বিধায়ক এককালের দাপুটে পুলিশকর্তা, আইপিএস। উর্দিতে থাকাকালীন তাঁর নাম শুনলে কাঁপত দুষ্কৃতীরা। তিনি অবশ্য সেদিন মমতা তৃণমূলের প্রতিবাদ মিছিলেও হাজির ছিলেন না। স্রেফ মিছিলে হামলার খবর শুনে পূর্ব যাদবপুর থানায় ছুটে এসে তাঁকে রক্তাক্ত হতে হয়েছে। হেনস্তার শিকার হয়েছেন মমতা তৃণমূলের উঠতি এক নেত্রীও। গত দু’দিন ধরে খাস কলকাতা শহরে মমতা তৃণমূলের নেতার বাড়িতে হামলা হচ্ছে, পার্টি অফিস দখল হচ্ছে। তার প্রতিবাদ জানাতে গিয়েও মার খেতে হচ্ছে। খোদ শহরের যখন এই অবস্থা, জেলাগুলোর হাল সহজেই অনুমেয়। সবই ঠিক আছে, কিন্তু এত হামলা করছে কারা? প্রতিবাদ করলে হামলার শিকার হবেন, এই সংস্কৃতিই বা বাংলায় হঠাৎ চালু করল কে? এই দুই প্রশ্নের উত্তর সকলেই জানেন। আবার কেউ জানেন না। যেমন মঙ্গলবারের ঘটনায় পুলিশ জানিয়েছে, মমতা তৃণমূলের সভা ও মিছিলে বাধা দিয়েছেন স্থানীয় কিছু লোকজন। হাতাহাতিতে কয়েকজন আহত হয়েছেন। অভিযোগ এলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কারা ছিল ঘটনাস্থলে তা সিসি ক্যামেরা দেখে চিহ্নিত করা হবে। বিজেপির লোকজন হাজির ছিল নাকি শিবির বদলানো তৃণমূল, তা নিয়ে পুলিশের মধ্যেই খানিক ধন্দ রয়েছে। স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক বলেছেন, সাধারণ মানুষ তারা প্রতিরোধ করছে। করবেই। তিনি যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল ঘনিষ্ঠ ‘টপ থ্রি ক্রিমিনালস’-এর নামও করেছেন। তা সত্ত্বেও এরা কী করে গারদের বাইরে ঘুরছে, সেটা অবশ্য তিনি খোলসা করেননি। সম্ভবত তা প্রশাসন জানে। তিনি জানেন না। তিনি একটাই বিষয় জানেন, এই প্রতিবাদ মিছিলের সামনে আছে তৃণমূল, পিছনে সিপিএম। এত গরমাগরম কথার মাঝে কিন্তু যাঁরা মার খেলেন, সেই মমতা তৃণমূল যে বিজেপির দিকে অভিযোগ তুলছে, তা কেউ কানেই তুলছে না।


