Bartaman Logo
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

হামলা করছে কারা?

থমে ডিমথেরাপি। তাতেও ভয় না পেলে সরাসরি গায়ে হাত। বেধড়ক মার। গালিগালাজ-হুমকি না হয় বাদ দেওয়া গেল

হামলা করছে কারা?
  • ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

থমে ডিমথেরাপি। তাতেও ভয় না পেলে সরাসরি গায়ে হাত। বেধড়ক মার। গালিগালাজ-হুমকি না হয় বাদ দেওয়া গেল। গত পাঁচমাস ধরে বাংলায় বিরোধী দলের জন্য ‘ওষুধ’ এটাই। মঙ্গলবার তো প্রাক্তন শাসকদলের প্রাক্তন এক বিধায়ককে একেবারে থানার সামনে মেরে মুখ ফাটিয়ে দেওয়া হল। ঘটনাচক্রে সেই প্রাক্তন বিধায়ক এককালের দাপুটে পুলিশকর্তা, আইপিএস। উর্দিতে থাকাকালীন তাঁর নাম শুনলে কাঁপত দুষ্কৃতীরা। তিনি অবশ্য সেদিন মমতা তৃণমূলের প্রতিবাদ মিছিলেও হাজির ছিলেন না। স্রেফ মিছিলে হামলার খবর শুনে পূর্ব যাদবপুর থানায় ছুটে এসে তাঁকে রক্তাক্ত হতে হয়েছে। হেনস্তার শিকার হয়েছেন মমতা তৃণমূলের উঠতি এক নেত্রীও। গত দু’দিন ধরে খাস কলকাতা শহরে মমতা তৃণমূলের নেতার বাড়িতে হামলা হচ্ছে, পার্টি অফিস দখল হচ্ছে। তার প্রতিবাদ জানাতে গিয়েও মার খেতে হচ্ছে। খোদ শহরের যখন এই অবস্থা, জেলাগুলোর হাল সহজেই অনুমেয়। সবই ঠিক আছে, কিন্তু এত হামলা করছে কারা? প্রতিবাদ করলে হামলার শিকার হবেন, এই সংস্কৃতিই বা বাংলায় হঠাৎ চালু করল কে? এই দুই প্রশ্নের উত্তর সকলেই জানেন। আবার কেউ জানেন না। যেমন মঙ্গলবারের ঘটনায় পুলিশ জানিয়েছে, মমতা তৃণমূলের সভা ও মিছিলে বাধা দিয়েছেন স্থানীয় কিছু লোকজন। হাতাহাতিতে কয়েকজন আহত হয়েছেন। অভিযোগ এলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কারা ছিল ঘটনাস্থলে তা সিসি ক্যামেরা দেখে চিহ্নিত করা হবে। বিজেপির লোকজন হাজির ছিল নাকি শিবির বদলানো তৃণমূল, তা নিয়ে পুলিশের মধ্যেই খানিক ধন্দ রয়েছে। স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক বলেছেন, সাধারণ মানুষ তারা প্রতিরোধ করছে। করবেই। তিনি যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল ঘনিষ্ঠ ‘টপ থ্রি ক্রিমিনালস’-এর নামও করেছেন। তা সত্ত্বেও এরা কী করে গারদের বাইরে ঘুরছে, সেটা অবশ্য তিনি খোলসা করেননি। সম্ভবত তা প্রশাসন জানে। তিনি জানেন না। তিনি একটাই বিষয় জানেন, এই প্রতিবাদ মিছিলের সামনে আছে তৃণমূল, পিছনে সিপিএম। এত গরমাগরম কথার মাঝে কিন্তু যাঁরা মার খেলেন, সেই মমতা তৃণমূল যে বিজেপির দিকে অভিযোগ তুলছে, তা কেউ কানেই তুলছে না।

Advertisement

রাজ্যের যে কোনো জায়গায় বিরোধীদের উপর হামলার ঘটনাকে প্রথমে জনরোষ আখ্যা দেওয়া হয়। বঙ্গ বিজেপির সভাপতি অবশ্য এসব ক্ষেত্রে সচরাচর একটাই বাক্য বলে থাকেন, এরা বিজেপির কেউ নয়। অথবা, এটা বিজেপির সংস্কৃতি নয়। তিনি এতবারই একথা বলেছেন যে, তা বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় টপ ট্রেন্ডিং ‘মিম’ বা রঙ্গরসিকতার পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। তাতে অবশ্য বঙ্গ বিজেপি সভাপতির কিছু যায় আসে না। তিনি এই একটি বিষয়ে অনড়। বাকি সব কথায় তাঁর অবস্থান বদলে যায়। গত ৪ মে’র পর কয়েকদিন তিনি কোনো তৃণমূল নেতা-কর্মীকে দলে না নেওয়ার পক্ষপাতী ছিলেন। পরে খানিক শুধরে ভালো তৃণমূলকে দলে নেওয়ার কথা বলেন। ততদিনে অবশ্য তৃণমূল ভাগ করে একাংশকে সরকারপন্থী বানিয়ে ফেলার পথ প্রশস্ত হয়ে গিয়েছে। পরে তিনি দলের একাংশের তোলাবাজি নিয়ে সরব হন। বারবার ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। পরে অবশ্য এই সবের দায় ৪ মে’ দুপুর ১২টার পর বিজেপি হয়ে যাওয়া অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেন। তাতে তোলাবাজি বন্ধ না হলেও, তা নিয়ে আলোচনা খানিক বন্ধ করা গিয়েছে বটে। তবে মাঝেমধ্যে এখনও তোলাবাজি নিয়ে আদি-নব্য বিজেপি নেতা-কর্মী কিংবা রাজ্যের মন্ত্রী-বিধায়ক প্রকাশ্যে তরজা হচ্ছে বটে। তবে এত মারধরের ভিড়ে সেই খবর কে রাখে!
এত ঘটনার ভিড়ে সিপিএম অবশ্য খানিক উদ্বাহু হয়ে নাচছিল। এমনকি নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের নাম ও প্রতীক ফ্রিজ করে মমতা ও ঋতব্রত শিবিরকে আলাদা নাম ও প্রতীক দেওয়ায় বামপন্থীদের আলাপ-আলোচনায় মুখ্য বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছিল, এব্যাপারে এক নেতার ভবিষ্যদ্বাণী! মঙ্গলবার ভবিষ্যদ্বাণীতে বিশ্বাসী সেই বাম দলেরই এক নেতা ডিমের শিকার হয়েছেন। সেক্ষেত্রে কি বিজেপি অভিযুক্ত? নাকি নিছক দুষ্কৃতী বা সাধারণ মানুষ? দুষ্কৃতীরা যে কোনো দলের নয়, সেকথা সবাই জানে। কিন্তু তাদের কাজে কোনো একটি রাজনৈতিক দলের লাভ হচ্ছে না তো? রা঩জ্যে বার বার এমন ঘটনা ঘটলে তার দায় কি এড়াতে পারে প্রশাসন?

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ